কখন ঘর হেলে পড়ে—এই চিন্তায় ঘুম আসে না পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরুনের

বন্যার পর আমিরুনের ঘর থেকে কিছুক্ষণ পরপর ছন-মাটির বেড়া খসে পড়ছে
ছবি: প্রথম আলো

এক কক্ষের মাটির ঘর। সেখানেই স্বামী আর চার সন্তানকে নিয়ে গাদাগাদি করে থাকেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরুন বেগম। মাটির ঘরে জীবন কেটে গেলেও তা নিয়ে আমিরুনের কোনো খেদ ছিল না। তবে সপ্তাহখানেক আগে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় আমিরুনের ঘর প্লাবিত হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর ঘরে হাঁটু পানি দেখা দেয়।

আমিরুনের ঘরে টানা কয়েক দিন বন্যার পানি ছিল। এখন পানি নেমে গেলেও চিহ্ন রয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পরপর ছন-মাটির বেড়া খসে পড়ছে। মাটির মেঝে দেবে যাওয়ায় হেলে পড়েছে পুরো ঘর। পড়ে যাওয়া ঠেকাতে ঘরের ভেতরে কয়েকটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেস দেওয়া হয়েছে। খুঁটির পাশে দাঁড়িয়ে আমিরুন বলেন, ‘কখন যে ঘর হেলে পড়ে, এ চিন্তায় এখন ঘুম আসে না।’

আরও পড়ুন

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধর্মদা গ্রামে আমিরুন বেগমের বাড়ি। স্বামী শেখ শায়েস্তা মিয়া (৫৮) একজন কৃষক। তবে তাঁদের নিজেদের কোনো কৃষিজমি নেই। পরের জমিতেই চাষাবাদ করেন। শায়েস্তা-আমিরুনের দুই ছেলে, দুই মেয়ে। ছেলেরা কৃষিকাজের পাশাপাশি দৈনিক মজুরিতে অন্যের বাড়ি কাজ করেন। বন্যার পানিতে চারদিক তলিয়ে যাওয়ায় তাঁদের কাজকর্মও বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পড়েছেন খাবারের সংকটেও।

আরও পড়ুন

গত বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে মেঝেজুড়ে কাদামাটি, স্যাঁতসেঁতে। মাটির চুলা পানিতে তলিয়ে ভিজে-গলে নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে আছে। ছন আর মাটির বেড়ায় ছোটবড় অসংখ্য ফুটো। ভেজা মাটি থেকে অস্বস্তিকর দুর্গন্ধ নাকে আসে।

মাটির মেঝে দেবে পুরো ঘর হেলে পড়েছে। পড়ে যাওয়া ঠেকাতে ঘরের ভেতরে কয়েকটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেস দেওয়া হয়েছে
ছবি: প্রথম আলো

আমিরুন বেগম নিজের বিধ্বস্ত ঘরটি দেখাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চুলা ডুবি যাওয়ায় রানতামও পারছি না, খাইতামও পারছি না। টাকা নাই, এখনো ঠিকমতো খাইতামই পারতাছি না। শুনছি, যারার ঘর পানি উঠি ভাসি গেছে, সরকার তারারে খাওনদাওন (ত্রাণ) দিতাছে। আমরা এক মুঠ চিড়াও পাইছি না। খাইতাম পারতাছি না, ঘর ঠিক করমু কেমনে? কুনদিন জানি ঘর ভাইঙা মাথাত পড়ে, চিন্তা কইরাও কূলকিনারা পাই না।’

আরও পড়ুন