স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় মামলা
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি লিটন কবিরাজকে কুপিয়ে হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাজিরা থানায় মামলাটি করেন লিটনের চাচাতো ভাই সিরাজ কবিরাজ। মামলায় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেকান্দার হাকিদারকে প্রধান করে ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে জাজিরা পৌরসভার কবিরাজকান্দি এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটনকে (৪৩) কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর বাঁ হাতের কবজি, ডান হাতের তিনটি আঙুল ও ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আহত লিটনকে বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গত বছর জাজিরা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেন সেকান্দার হাকিদার ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজ কবিরাজ। নির্বাচনে সেকান্দার হাকিদার বিজয়ী হন। নির্বাচনের পর থেকে সেকান্দার হাকিদারের সঙ্গে সিরাজ কবিরাজের বিরোধ শুরু হয়। বুধবার রাত আটটার দিকে লিটন বাড়ি ফিরছিলেন। কবিরাজকান্দিতে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়।
জাজিরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুক আহম্মেদ জানান, আহত লিটনের চাচাতো ভাই সিরাজ কবিরাজ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গতকাল রাতে থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন পৌর কাউন্সিলরসহ ৩১ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জাজিরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সেকান্দার হাকিদার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিটনের ওপর কারা হামলা চালিয়েছে, তা আমি জানি না। কিছুদিন আগে সিরাজ ও তাঁর লোকজন আমার ভাইকে কুপিয়ে আহত করেছেন। কিন্তু আমরা কোনো সংঘাতে যাইনি। তারপরও এ মামলায় আমাকে জড়ানো হলো।’
মামলার বাদী পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজ কবিরাজ বলেন, ‘আমার ভাইকে নির্দয়ভাবে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ তা জানে। তাঁদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলাও করেছি। তারপরও তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আমরা ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত।’
স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা লিটনের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানান জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান। তিনি আরও বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।