কিছু করে দেখান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সালমান মুক্তাদির

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির বলেছেন, তাঁকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। তিনি নিজেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। কিন্তু দেশের প্রত্যেক মানুষের জানমালের নিরাপত্তা সরকারকে দিতে হবে। তা না হলে দেশ বিরাটভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের জবাবে আজ রোববার বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে সালমান বলেছেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পারলে কিছু করে দেখান। তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর দরকার নেই।

ভিডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে সালমান মুক্তাদির বলেছেন, গতকাল রাতে তাঁর স্টুডিওতে হামলার পর তিনি থানায় মামলা করতে গিয়ে ভোর চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন; কিন্তু মামলা নেওয়া হয়নি। মামলা না হওয়ার কথা দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে বলছেন।

তাঁরও প্রশ্ন, এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগপর্যন্ত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আসার আগপর্যন্ত মামলা কেন হলো না। তিনি লোকজন নিয়ে চারটা পর্যন্ত বসে থাকার পরও কেন মামলা করতে পারলেন না। পরে মামলা হলেও সেই তথ্য কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গেল না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আপনার এত বড় রেসপনসিবিলিটি থেকে আপনি যখন স্টেটমেন্টে বললেন যে মামলা দায়ের কেন করা হয় না, সালমান মুক্তাদির মামলা দায়ের করেন নাই। এই জিনিসটা কেন হাস্যকর এবং আপনাদের পুরো ডিপার্টমেন্ট, আপনাদের পুরো সরকারকে কীজন্য এখানে এত ছোট করে ফেললেন।

স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও দিয়েছেন সালমান মুক্তাদির
ছবি: সালমান মুক্তাদিরের ভিডিও থেকে নেওয়া

‘আমি যে গতকালকে চারটা পর্যন্ত এতগুলো মানুষ নিয়ে আপনার থানাতে বসে ছিলাম, ক্যান্টনমেন্ট থানায় গত রাত চারটা পর্যন্ত, আমি টায়ার্ড হয়ে বাসায় ফেরত আসলাম, যেখানে আমার মাথা ঠিক থাকার কথা না, তখনো এসে আজকে দুপুর পর্যন্ত মামলা করা হয় নাই। আনটিল থিংস গট ভাইরাল অ্যান্ড আপনার স্টেটমেন্ট আসে, এর আগপর্যন্ত মামলা আসলেও কেন দায়ের করা হয় নাই, এই প্রশ্নটা আমার আপনার কাছে থাকার কথা। দেশবাসীকে আপনারই অ্যানসার করতে হবে, কেন সালাহউদ্দিন আহমদের আন্ডারে মামলা দায়ের হয় নাই।’

এ ঘটনায় কখন মামলা হয়েছে জানতে চাইলে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গিয়াস উদ্দিন রাতে প্রথম আলোকে বলেন, আজ রোববার সকাল সাড়ে আটটায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

এরপর দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে মামলা না হওয়ার কথা উল্লেখ করা নিয়েও ভিডিও বার্তায় কথা বলেছেন সালমান মুক্তাদির। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আপনি একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আপনার প্রত্যেকটা থানা, প্রত্যেকটা অথরিটি, প্রত্যেকটা অ্যাডমিন আপনার এক কল, এক বাটনের আন্ডারে। আপনি জানেনও না যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আপনার কাছে আপডেটটা নাই। আপনি কতটুকু ডিটাচড (বিচ্ছিন্ন) আপনার দেশের নাগরিকদের সঙ্গে, আপনার যে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি প্রোটোকল, সেটার সঙ্গে আপনি পুরোপুরি ডিটাচড, আপনি জানেন না, মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

এ ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগকে ‘ঢালাও ও বিতর্কিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর এ বক্তব্যের সমালোচনা করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমি বিএনপির কথা কেন বললাম, চাঁদাবাজির কথা কেন বললাম? আপনি মুচকি যে রকম হাসি দেন, এই মুচকি হাসি এখন আমার দিতে ইচ্ছা করতেছে। দেখেন, আমারও হাসি আসে, আপনারও হাসি আসে। আমরা এক রকম হেল্পলেস (অসহায়)। আপনিও কিছু করতে পারতেছেন না, আমিও কিন্তু কিছু করতে পারছি না। আপনি হেসে হেসে উড়ায় দিচ্ছেন, আমিও হেসে হেসে উড়ায় দিচ্ছি।’

আরও পড়ুন

গতকাল রাতে ঘটনাস্থল থেকে যে তিনজনকে আটক করা হয়, তাঁরাই বিএনপির নাম বলেছে বলে দাবি করেছেন সালমান মুক্তাদির। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘তাদের বন্দুক থেকে ফায়ার করা হয়েছে। সে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের চাপাতি, কোদাল—সব সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের ফোনের ভিডিও আমি দেখলাম। তাদের চেহারা আমি দেখলাম। তারা স্বীকার করতেছে, মানুষের কাছ থেকে মাইরটাইর খাওয়ার পর, মানুষের মুখে শুনতেছি, তারা বিএনপির নাম নিয়ে নিছে।’

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, ‘আমার স্যানিটি বজায় রাখতে হবে, কম্পোজার বজায় রাখতে হবে, এরপর আমার স্পিচ ঠিক রাখতে হবে। আমি বিএনপিকে কোনো কথা বলতে পারব না, আঙুল তুলতে পারব না। আমি খুবই কনফিউজড। আপনি কি বিএনপির পিয়ার ম্যানেজমেন্ট ক্রাইসিসের দায়িত্ব নিয়েছেন, নাকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিছেন? এখানে আমি খুবই কনফিউজড। বিকজ প্রবলেম ওয়াজ সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, ‘আমরা এখানে ইনভেস্টিগেশনের জন্য আপনার কাছে আসিনি। আমরা আসছি অ্যাকশনের জন্য। আপনি নিজে বললেন যে আমি ঢালাওভাবে কথা বলছি। আপনি তো তাহলে নিজে বলে দিলেন যে কোনো একটা সামরিক বাহিনীর লোক এখানে ইনভলভড। ওকে, আপনার তো তার ইনভেস্টিগেশন হইছে। তারপর আপনি কী করলেন? আপনি এসে প্রেস ব্রিফিংয়ে কোনো অ্যানসার দিলেন না, কোনো অ্যাকশন নিলেন না, এমন কোনো কাজ করলেন না যেখানে বাংলাদেশের মানুষ সিকিউরিটিকে এনশিওর করতে পারে; বরং আপনি বলে দিলেন, সালমান মুক্তাদির বলেছেন, ভদ্রলোক হ্যান বলেছেন, ত্যান বলেছেন।’

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘কিছু একটা করে দেখান। আপনাদের থেকে কিন্তু টাকা চাই না। আমার স্টুডিও বানায় দিতে হবে না। আমি সালমান মুক্তাদির যথেষ্ট স্ট্রং। আমি কারও থেকে ভিক্ষা চাবো না।...আমার কিছু লাগবে না। ইফ ইউ রিয়েলি ওয়ান্ট টু ডু সামথিং, ডু সামথিং ফর বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, ‘আমার এটার থ্রুতে যদি আপনারা কোনো রকমের সেফটি, সিকিউরিটি মানুষের জন্য এনশিওর করতে না পারেন, আমার নাগরিকদের সিকিউরিটি এনশিওর করতে না পারেন, তাহলে মাই লস।’

আরও পড়ুন