প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেনি ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলের পরিবার: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের পরিবার প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেনি। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দী জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর কোনো আবেদন করা হয়নি।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জুয়েলের পরিবারের মৌখিক অভিপ্রায় অনুযায়ী যশোর জেলগেটে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসন ও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যশোর জেলা প্রশাসক বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে মর্মে প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয় বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কানিজের স্বামীর বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ এবং ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। কানিজ সুবর্ণা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েলের স্ত্রী। জুয়েল বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে আছেন।

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শনিবার দুপুরে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোসল শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাঁদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন জুয়েল।

আরও পড়ুন

স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় আসতে জুয়েলকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্যারোলের একটি আবেদন নিয়ে আসছিল। তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। যেহেতু সে আছে যশোরের কারাগারে, আবেদন করতে হবে সেখানকার (যশোরের) জেলা প্রশাসক বা জেল সুপারের কাছে।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘এখানকার (বাগেরহাটের) প্রশাসন তাদের বিষয়ে যশোর জেলা কারাগারেও বলে দিয়েছিল। কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছিল, যেন সুন্দরভাবে, সঠিকভাবে তাদের মৃত স্বজনের লাশ দেখতে পারে। আমরা তাদের সেখানে যাওয়া এবং দেখার বিষয়ে সহযোগিতা করেছি।’

আরও পড়ুন