শিকলহীন জয়িতা বদলে দিচ্ছে হাতি প্রশিক্ষণের চেনা কাঠামো

পায়ে শিকল বাঁধা মা বেলকলির পাশে শিকলহীন ঘুরে বেড়াচ্ছে তিন বছর বয়সী জয়িতা। ২৮ মার্চ, গাজীপুর সাফারি পার্কেছবি: মানসুরা হোসাইন

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেতরে এক পাশে শিকলে বাঁধা বড় হাতিদের ভারী উপস্থিতি। কুসুম মালা, মুক্তি রানী, আমির বাহাদুর, রাজা বাহাদুর, নিহারকলি, বেলকলি, পূজা রানী, সম্রাট বাহাদুর ও রাজ বাহাদুর—প্রত্যেকেরই পায়ে পরিচিতিতে বন্দিদশার চিহ্ন। অথচ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে তিন বছর বয়সী ছোট্ট হাতি জয়িতা, যার পায়ে নেই কোনো শিকল। নেই টানাটানির দাগ, নেই ভয়ভীতির ছায়াও।

মা বেলকলির পাশে জয়িতা কখনো শান্তভাবে দাঁড়ায়, কখনো নিজের ইচ্ছেমতো পার্কের খোলা জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। এই স্বতঃস্ফূর্ত চলাফেরাই এখন তার প্রতিদিনের জীবন।

গত বছরের মে মাস থেকে গাজীপুর সাফারি পার্কে সনাতন হাদানি পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে একটি ভিন্নধর্মী হাতি প্রশিক্ষণ পদ্ধতি—‘পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং’। বন বিভাগের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ার পরীক্ষামূলক সূচনা হয়েছে জয়িতাকে দিয়েই।

ভালোবাসা দিয়েই এখানে হাতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা হচ্ছে। জয়িতা যে বুঝতে পারছে কোন পা বাড়াতে হবে এটাই অনেকটুকু অগ্রগতি। হাতি অসুস্থ হলে, রক্ত দিতে হলে বা চিকিৎসা করার সময় এটুকুই অনেক কাজে দেবে। অথচ হাদানি প্রশিক্ষণ পাওয়া অন্য হাতির বেলায় কান দিয়ে চোখ ঢেকে ধরে চিকিৎসা করতে হয়। এতে মাহুতের জীবনের ঝুঁকি থাকত

হাদানি প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে হস্তীশাবককে পোষ মানাতে বা বশে আনতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। হস্তীশাবককে প্রথমেই মা থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। কিন্তু জয়িতার বেলায় তা করা হয়নি।

এই পদ্ধতির মূল ধারণা হলো, ভয় দেখানো নয়, বরং খাবার, প্রশংসা ও ধৈর্যের মাধ্যমে প্রাণীকে শেখানো। জয়িতা তাই এখন শিকল, লাঠি বা ভয় নয়, বরং নির্দেশ আর পুরস্কারের মাধ্যমে শিখছে।

জয়িতাকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন প্রশিক্ষক রাকিবুল হক ও মাহুত ময়নু মিয়া। ২৮ মার্চ, গাজীপুর সাফারি পার্কে
ছবি: প্রথম আলো

হাদানি বনাম নতুন প্রশিক্ষণ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে হাতি প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ‘হাদানি’ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হাতির গলা, সামনের দুই পা একসঙ্গে এবং পেছনের এক পা মোটা দড়ি দিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখা গাছের গুঁড়ির সঙ্গে শক্ত করে বাঁধা হয়। হাতি নড়াচড়া করলেই দড়িতে টান পড়ে। মাহুতের কথা না শুনলে লাঠি, কখনো কখনো লোহার তৈরি ‘কুকু’ দিয়ে হাতিকে আঘাত করা হয়। এতে অনেক সময় হাতির শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়।

ওই অবস্থাতেই গুঁড়ি থেকে ছাড়িয়ে হাতিকে চারপাশ ঘুরিয়ে আনা হয়। পাহাড় থেকে গাছ টেনে নামানো, সার্কাস ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে খেলা ও শারীরিক কসরত দেখানো, চাঁদাবাজি করাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করতে শৈশবেই হাতির এমন হাদানি করানো হয়। হাদানি প্রশিক্ষণে অনেক সময় খেতেও দেওয়া হয় না।

গত বছরের মে মাস থেকে গাজীপুর সাফারি পার্কে সনাতন হাদানি পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে একটি ভিন্নধর্মী হাতি প্রশিক্ষণ পদ্ধতি—‘পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং’। বন বিভাগের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ার পরীক্ষামূলক সূচনা হয়েছে জয়িতাকে দিয়েই।

কিন্তু জয়িতার এমন কোনো ভয়াবহ স্মৃতি নেই। চোখা কুকির পরিবর্তে জয়িতার জন্য একটি বড় লাঠিতে সাদা গোল বল ব্যবহার করা হয়। প্রশিক্ষক ও মাহুতেরা যখন জয়িতার পায়ে এই লাঠি দিয়ে আলতো করে ঘষা দিতে থাকেন, তখন চুপ করে থাকে জয়িতা। এ ছাড়া খাবার দিয়েও উৎসাহ দেওয়া হয় জয়িতাকে।

শিকলহীন একলা ঘুরে বেড়াচ্ছে হস্তীশাবক জয়িতা। ২৮ মার্চ, গাজীপুর সাফারি পার্কে
ছবি: মানসুরা হোসাইন

জয়িতা যেভাবে শেখে

গত ২৮ মার্চ সাফারি পার্কে গিয়ে দেখা যায়, জয়িতা তার মা বেলকলির পাশে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। দুজন মাহুত এবং প্রশিক্ষকের সঙ্গে জয়িতা ও বেলকলির বেশ ভাব হয়েছে। প্রশিক্ষক ‘জয়িতা, জয়ি মা’ বলে ডাক দিলে লক্ষ্মী মেয়ের মতোই জয়িতা এগিয়ে যাচ্ছে। বেলকলিও কোনো আপত্তি করছে না। অর্থাৎ মেয়ে জয়িতার কোনো ক্ষতি হবে না, এ বিষয়ে বেলকলিকে আশ্বস্ত করা গেছে।

আবার প্রশিক্ষক ‘জয়িতা, ফুট’ বলে নির্দেশ দেন, তখন সে ধীরে ধীরে পা বাড়ায়। নির্দেশ বুঝে সাড়া দেয়। ভুল করলে ধমক নয়, বরং আবার খাবার দিয়ে শেখানো হয়। হয়তো ডান পা বাড়িয়েছে, তখন প্রশিক্ষক বাঁ পা দিতে বললে তাই শুনছে। জয়িতা সব কাজ ঠিকমতো করলে প্রশিক্ষক ‘শাবাশ’ বলে প্রশংসা করছেন। আর ভুল করলে ধমক নয়, বরং জয়িতা ও তার মা বেলকলিকে কলা, মিষ্টিকুমড়াসহ নানা খাবার দিয়ে শেখাচ্ছিলেন প্রশিক্ষক ও মাহুতেরা।

‘হাদানি’ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হাতির গলা, সামনের দুই পা একসঙ্গে এবং পেছনের এক পা মোটা দড়ি দিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখা গাছের গুঁড়ির সঙ্গে শক্ত করে বাঁধা হয়। হাতি নড়াচড়া করলেই দড়িতে টান পড়ে। মাহুতের কথা না শুনলে লাঠি, কখনো কখনো লোহার তৈরি ‘কুকু’ দিয়ে হাতিকে আঘাত করা হয়।

বাংলাদেশে হস্তীশাবককে ‘পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং’ দেওয়ার মতো কোনো প্রশিক্ষিত লোক নেই। পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিল থাইল্যান্ডের সেভ এলিফ্যান্ট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সাফারি পার্কে এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

মাহুত কিরণ বিকাশ চাকমার সঙ্গে জয়িতা। ২৮ মার্চ, গাজীপুর সাফারি পার্কে
ছবি: প্রথম আলো

রাকিবুল হক বলেন, ভালোবাসা দিয়েই এখানে হাতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা হচ্ছে। জয়িতা যে বুঝতে পারছে কোন পা বাড়াতে হবে, এটাই অনেকটুকু অগ্রগতি। হাতি অসুস্থ হলে, রক্ত দিতে হলে বা চিকিৎসা করার সময় এটুকুই অনেক কাজে দেবে। অথচ হাদানি প্রশিক্ষণ পাওয়া অন্য হাতির বেলায় কান দিয়ে চোখ ঢেকে ধরে চিকিৎসা করতে হয়। এতে মাহুতের জীবনের ঝুঁকি থাকত।

রাকিবুল বলেন, পুরস্কার ও প্রশংসার মাধ্যমে প্রাণীকে নির্দেশ মানাতে শেখানোর পদ্ধতিই পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট ট্রেইনিংয়ের মূল। জয়িতাকে দিয়ে বন বিভাগ প্রথম এ ধরনের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিসি প্রাট ২০ বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করছেন, তাঁর ১৫ ঘণ্টার বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্সে অংশ নেন রাকিবুল। পরে তিনি থাইল্যান্ডে ক্রিসি প্রাটের সঙ্গে দেখা করে প্রশিক্ষণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

হাতিরে বশে আননের লাইগ্যা কুকি দিয়া ডরও দেখান লাগত। এখন ডর দেখানোর কোনো কারবার নাই
ময়নু মিয়া, জয়িতাকে প্রশিক্ষণে সহায়তাকারী

রাকিবুল হকের সঙ্গে মাহুত ময়নু মিয়া ও কিরণ বিকাশ চাকমা জয়িতাকে প্রশিক্ষণে সহায়তা করেন। সাফারি পার্কে কাজ করার আগে ময়নু মিয়া মৌলভীবাজারে হাদানি পদ্ধতিতে বিভিন্ন হাতিকে প্রশিক্ষণ দিতেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাতিরে বশে আননের লাইগ্যা কুকি দিয়া ডরও দেখান লাগত। এখন ডর দেখানোর কোনো কারবার নাই।’

মা বেলকলি ও খালা পূজা রানীর সঙ্গে জয়িতা। ২৮ মার্চ, গাজীপুর সাফারি পার্কে
ছবি: মানসুরা হোসাইন

হাদানি বন্ধে আদালতের নির্দেশ

২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পোষ মানানোর হাদানি প্রশিক্ষণের নামে হাতির ওপর চালানো নিষ্ঠুর আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি নির্দেশ দেন মৌলভীবাজারের আদালত। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও পত্রিকাটির ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত এ-বিষয়ক সচিত্র প্রতিবেদন আমলে নিয়ে জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুহম্মদ আলী আহসান এই নির্দেশ দিয়েছেলেন।

হাতির প্রতি নিষ্ঠুর নির্যাতন নিরসনে মৌলভীবাজারের জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তা বেআইনি গণ্য করে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার কারণ দর্শানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএনের লাল তালিকাভুক্ত এশীয় হাতি বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত।

আদালত বলেন, কোনো প্রাণীকে পোষ মানানোর জন্য নির্যাতনের প্রয়োজন নেই। হাতি একটি সংবেদনশীল প্রাণী, যার স্বাভাবিক অনুভূতি আছে। বাচ্চা হাতি পোষ মানানোর সময় তাকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হয়, যা সবশেষ পন্থা হিসেবে বিবেচিত।

যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতিতে হাতিকে মানুষের বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করার ফলে অনেক হাতির মানসিক সমস্যা হয়ে যায়, যাকে প্রচলিত ভাষায় ‘পাগলা হাতি’ বলা হয়। এগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পোষ মানানোর নামে তথাকথিত প্রশিক্ষণ স্পষ্টত বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এর লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করে আদালত হাতির প্রতি পরিবেশগত ন্যায্যতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

মায়ের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছে জয়িতা। ২৮ মার্চ, গাজীপুর সাফারি পার্কে
ছবি: প্রথম আলো

দুর্ঘটনা ও নির্যাতনের চক্রে বন্দী হাতির জীবন

গত জানুয়ারিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা এলাকায় সাত বছর বয়সী হাতি বীর বাহাদুরকে ‘হাদানি’ দেওয়ার সময় বন বিভাগ উদ্ধার করে। ওই সময় মা সুন্দর মালার কাছ থেকে বীর বাহাদুরকে আলাদা করে পায়ে দড়ি বেঁধে আটকে রাখা হয়েছিল। উদ্ধারের পর বীর বাহাদুরকে তার মায়ের কাছে কালাপাহাড় জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ওই মাসেই জকিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে রথযাত্রা ও মেলা অনুষ্ঠানে সুন্দর মালাকে ভাড়া নেওয়া হয়। কিন্তু দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়ে তার মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর পর বীর বাহাদুর একাই থেকে যায়।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ মে ঢাকার উত্তরা কোর্টবাড়ি লেভেল ক্রসিং এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় আট বছর বয়সী বাচ্চা হাতি রাজ বাহাদুরের মৃত্যু হয়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের এক বাসিন্দা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে হাতিটিকে পুষতেন। নারায়ণগঞ্জে একটি বিয়েবাড়িতে হাতিটি ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন
জয়িতা ছাড়া আর অন্য সব হাতির পায়ে শিকল বাঁধা। ২৮ মার্চ, গাজীপুর সাফারি পার্কে
ছবি: প্রথম আলো

একই বছর মৌলভীবাজারে সার্কাসে নিয়ে যেতে শিকল পরানোর সময় মাহুত গোলাম মোস্তফা হাতি আমীর বাহাদুরের আক্রমণে নিহত হন। এর আগে একই হাতির আক্রমণে আরেক মাহুত রাসেল মিয়ার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ২০২২ সালের ডিসেম্বরে গাজীপুর সাফারি পার্কে আমীর বাহাদুরের আঘাতে আরেক হাতি শেল বাহাদুর মারা যায়।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএনের লাল তালিকাভুক্ত এশীয় হাতি বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত। গত ৩ মার্চ প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে এখন কত হাতি, জানে না বন বিভাগ’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বন বিভাগের সর্বশেষ ২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে বন্য আবাসিক হাতি ছিল ২৬৮টি।

এদিকে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অভিনেত্রী জয়া আহসান ও পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন সার্কাস, সামাজিক অনুষ্ঠান ও চাঁদা তোলার কাজে হাতির ব্যবহার এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করেন। এতে হাতি পালনে লাইসেন্স বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বন বিভাগের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

থাইল্যান্ডের সাইংদুয়াং লেক চাইলার্ট ‘সেভ দ্য এলিফ্যান্ট ফাউন্ডেশন’ ও ‘এলিফ্যান্ট নেচার পার্ক’ প্রতিষ্ঠা করে উদ্ধার হওয়া হাতিদের শিকলমুক্ত জীবন দিচ্ছেন। এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে আয়োজিত ‘লাভ অ্যান্ড ব্যানানাস: অ্যান এলিফ্যান্ট স্টোরি’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ট্রি প্রটেকশন মুভমেন্ট।

এ অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, হাতিকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে থাইল্যান্ড যে উদাহরণ তৈরি করেছে, তা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।

হাদানির মতো ‘কঠোর আর্মি ট্রেনিং’ আর প্রয়োজন নেই, কারণ হাতিকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। জয়িতা এখন আধুনিক প্রশিক্ষণের আওতায় আছে। তবে জয়িতা সবকিছু শিখে গেছে তা বলার মতো সময় এখনো আসেনি
মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, বন সংরক্ষক, বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল

চাইলার্ট বলেন, তিনি ৩০ বছর ধরে হাতির নির্যাতন বন্ধে কাজ করছেন এবং সরকারের সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশেও বন্দী হাতিকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিতে চান।

বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, সাফারি পার্কে ইতিমধ্যে ‘পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং’ শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা বিস্তৃত করা হবে।

এই বন সংরক্ষক আরও বলেন, হাদানির মতো ‘কঠোর আর্মি ট্রেনিং’ আর প্রয়োজন নেই, কারণ হাতিকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। জয়িতা এখন আধুনিক প্রশিক্ষণের আওতায় আছে। তবে জয়িতা সবকিছু শিখে গেছে, তা বলার মতো সময় এখনো আসেনি।

আরও পড়ুন