বন্দী হাতিকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে থাইল্যান্ডের কাছে শেখার আছে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

মঞ্চে কথা বলছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। পাশেই থাই রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাউয়াদি। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, ঢাকা। ১৩ এপ্রিল ২০২৬ছবি: সংগৃহীত

হাতিকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে থাইল্যান্ড যে উদাহরণ তৈরি করেছে, তা থেকে উৎসাহ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘তাদের কাছ থেকে শেখার আছে। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের বন্দী হাতিদের জন্য কিছু করতে পারি।’

সোমবার রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এ কথা বলেন। বন্দী হাতিকে শিকলমুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া থাইল্যান্ডের সাইংদুয়াং লেক চাইলার্টের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘লাভ অ্যান্ড ব্যানানাস: অ্যান এলিফ্যান্ট স্টোরি’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ট্রি প্রটেকশন মুভমেন্ট।
হাতিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে চাইলার্ট এক বিশাল উদাহরণ তৈরি করেছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার ধারণা ছিল না। বাংলাদেশে হাতির চিত্র খুবই হতাশাজনক। খুব দুঃখ পাই। শত শত মানুষের সামনে হাতি হত্যা করা হয়, অথচ কেউ রক্ষায় এগিয়ে আসে না।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার নতুন। দুই দিন আগে বন ও বন্য প্রাণী রক্ষায় আইন পাস হয়েছে। থাইল্যান্ডের লেক চাইলার্টের কাজ আমাদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।’

মঞ্চে কথা বলছেন থাই রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাউয়াদি। পাশে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীসহ অতিথিরা। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, ঢাকা। ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অনুষ্ঠানে থাই রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাউয়াদি বলেন, বাংলাদেশের তরুণেরা হাতি সংরক্ষণে যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, তাতে থাইল্যান্ড সহযোগিতা করবে।

পাচার হওয়া হাতি এবং সার্কাস ও পর্যটকদের বিনোদনে ব্যবহৃত হাতি উদ্ধার করে স্বাভাবিক জীবন দিতে ‘সেভ দ্য এলিফ্যান্ট ফাউন্ডেশন’ ও ‘এলিফ্যান্ট নেচার পার্ক’ প্রতিষ্ঠা করেন থাইল্যান্ডের সাইংদুয়াং লেক চাইলার্ট।

অনুষ্ঠানে চাইলার্ট বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হাতির প্রতি যে নিষ্ঠুরতা দেখেছি, তা বন্ধ করতে ৩০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। থাইল্যান্ডে একসময় বিলবোর্ডে হাতির সার্কাসের বিজ্ঞাপন প্রচার হতো। এখন সেগুলো বন্ধ হয়েছে।’

সরকারের সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশেও বন্দী হাতিকে মুক্তি দেওয়ার কাজ করতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশেও আমরা এ কাজ করতে চাই।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ট্রি প্রটেকশন মুভমেন্টের সমন্বয়ক আমিরুল রাজিব। অনুষ্ঠানে গাজীপুর সাফারি পার্কে এ রকম বন্দী হাতিকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর প্রচেষ্টার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করেন প্রাণী অধিকারকর্মী রাকিবুল হক এমিল।