বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এতক্ষণ নীল-কালো পালকে মোড়া অনিন্দ্যসুন্দর যে পাখিটির কথা বললাম, সেটি এ দেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি নীলপরি। ইংরেজি নাম এশিয়ান ফেইরি ব্লুবার্ড। আইরেনিডি গোত্রের নীলপরির বৈজ্ঞানিক নাম Irena puella। পাখিটির বৈশ্বিক বিস্তৃতি এশিয়া মহাদেশে সীমাবদ্ধ; বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাস করে।

নীলপরি মাঝারি আকারের পাখি। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহের দৈর্ঘ্য ২৪-২৭ সেন্টিমিটার। ওজনে পুরুষ ৫৬-৭৭ ও স্ত্রী ৫১-৭১ গ্রাম হয়ে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষের পালকের রঙে পার্থক্য রয়েছে। পুরুষের দেহের ওপরের অংশ, অর্থাৎ মাথার চাঁদি থেকে পিঠ হয়ে কোমর পর্যন্ত উজ্জ্বল চকচকে বেগুনি নীল। লেজ, ডানা ও দেহের নিচের অংশ চকচকে কালো। উভয় ডানার ওপর দুটি করে বেগুনি নীল ফোঁটা রয়েছে। চিবুক ও মুখমণ্ডল গাঢ় মখমলে কালো; লেজতল-ঢাকনি নীলচে। চঞ্চু সোজা ও কালো। অন্যদিকে ডানা ও লেজ বাদে স্ত্রী ও এক বছর বয়সী পুরুষের পালক ফ্যাকাশে নীলচে সবুজ। ডানা ও লেজ ফ্যাকাশে কালো; ডানার প্রান্ত নীলচে ধূসর। চঞ্চু বাদামি কালো। স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেষে চোখ গাঢ় লাল এবং পা, পায়ের পাতা ও নখ কালো। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি দেখতে অনেকটা স্ত্রী পাখির মতো; তবে ওদের ডানা বাদামি।

default-image

নীলপরি সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বন ও আশপাশের এলাকায় বাস করে। সচরাচর একাকী, জোড়ায় বা পাঁচ-ছয়টির ছোট দলে থাকে। দিবাচর পাখিগুলো মূলত পাকা ফল ও ফুল-ফুলের রস খায়। মাঝেমধ্যে পোকামাকড়ও খেতে পারে। দিবাচর পাখিগুলো সচরাচর ফলদ গাছের ওপরেই বিচরণ করে। তবে ফল ও পোকামাকড়ের জন্য ঝোপঝাড়েও নামতে পারে। সচরাচর ‘উইট উইট উইট...’ শব্দে ডাকে।

জানুয়ারি থেকে জুন প্রজননকাল। এ সময় ভূমি থেকে দুই-ছয় মিটার উঁচুতে গাছের দোডালায় ঘন পাতার আড়ালে পাতার শিরা ও ক্ষুদ্র মূল দিয়ে মাচা বা পিরিচ আকারের ঢিলেঢালা বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ২-৩টি; রং হালকা সবুজাভ, যার ওপর থাকে গাঢ় বাদামি ছিট-ছোপ। স্ত্রী-পুরুষ মিলেমিশে ডিমে তা দেয় ও প্রায় দুই সপ্তাহে ডিম ফোটে। ছানারা ১১-১৭ দিনে উড়তে শেখে। মা-বাবা উভয়েই ছানাদের যত্ন করে ও খাওয়ায়। বুনো পরিবেশে আয়ুষ্কাল ১০-১২ বছর হলেও আবদ্ধাবস্থায় ১৫ বছরের বেশি বাঁচে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন