বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অপরূপা এ ম্যাগনোলিয়ার আগমন চীন থেকে। এটি একটি সংকর প্রজাতি। পূর্ব এশিয়ার ম্যাগনোলিয়া প্রজাতি ম্যাগনোলিয়া ডেনুডাটা ও ম্যাগনোলিয়া লিলিফ্লোরার সঙ্গে সংকরায়ণের মাধ্যমে এটির সৃষ্টি। এ প্রজাতিটিকে টিউলিপ ম্যাগনোলিয়া বলা হয়। টিউলিপ ম্যাগনোলিয়া যেকোনো বাগানের জন্য একটি অনন্য রত্ন। এর চমত্কার ফুল আকর্ষণীয় আকৃতি ও বিস্ময়কর রঙের সূক্ষ্মতায় নিজেদের উপস্থাপন করে। সাদা পাপড়িগুলো একটি বৈশিষ্ট্যযুক্ত টিউলিপ আকৃতি তৈরি করে এবং সুন্দরভাবে গোলাপি রঙে আবদ্ধ হয়।

এপ্রিল থেকে টিউলিপ তার দুর্দান্ত ফুলের প্রাচুর্য প্রকাশ করে এবং বাগানকে তার মঞ্চে রূপান্তর করে। যেমন একটি চটকদার চেহারার সঙ্গে এই ম্যাগনোলিয়া প্রজাতির জনপ্রিয়তা বিস্ময়কর নয়। এটি ম্যাগনোলিয়ার প্রজাতির মধ্যে ব্যাপকভাবে চাষ করা ধরন। টিউলিপ ম্যাগনোলিয়া দীর্ঘকাল ধরে চাষ করা হয়েছে প্যারিসের কাছে রয়্যাল হর্টিকালচারাল ইনস্টিটিউটে।

গুল্ম বা ছোট গাছের মতো বেড়ে ওঠা এ ম্যাগনোলিয়ার কাণ্ড সরল, চকচকে, গাঢ় সবুজ ডিম্বাকার আকৃতির পাতা। ফুল বসন্ত থেকে গ্রীষ্মের মধ্যে ফোটে এবং শরত্কাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ফুলগুলো বড়, সাধারণত ১০-২০ সেন্টিমিটারজুড়ে, সাদা, গোলাপি ও মেরুনসহ বিভিন্ন রঙের হয়।

নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত অশ্বারোহী কর্মকর্তা ম্যাগনোলিয়ার সংকরায়ণ করেছিলেন। তারপর ফ্রান্স থেকে সংকর জাতটি দ্রুত ইংল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যান্য অংশে এবং উত্তর আমেরিকায় প্রবেশ করে। তারপর থেকে অনেক দেশে উদ্ভিদ প্রজননকারীরা এই উদ্ভিদের বিকাশ অব্যাহত রেখেছেন।

সারা বিশ্বে প্রায় ৩৪০ প্রজাতির ম্যাগনোলিয়া জন্মে। প্রায় ৯৫ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে ম্যাগনোলিয়া উদ্ভিদের উদ্ভব হয়। নেপাল, ভারত ও চীনে ম্যাগনোলিয়ার একাধিক বুনো প্রজাতি আছে। বাংলাদেশের পাহাড়ি বনে কেবল এক প্রজাতির বুনো ম্যাগনোলিয়া (দুলিচাঁপা) জন্মে। তবে ক্রমাগত জুমচাষ ও পাহাড়ি বন ধ্বংসের কারণে বুনো প্রজাতিটি হারিয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিলে প্রজাতিটি টিকে থাকবে। চারা তৈরি করে শোভাবর্ধনের জন্য লাগানো যাবে সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং শেরপুরের বনে।

তা ছাড়া ম্যাগনোলিয়ার যে প্রজাতিগুলো উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় জন্মে, সেসব প্রজাতিকে শোভাবর্ধনের জন্য নগরে রোপণ করা যেতে পারে। ফুল ফুটলে নাগরিক মনে শিল্পবোধ, আনন্দ ও ভালোবাসা জাগবে। শহরকেও প্রাণবন্ত দেখাবে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন