বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাপার সভাপতি ও সম্মেলন আয়োজন কমিটির প্রধান সুলতানা কামাল বলেন, ‘বিশ্বের কাছে আমরা সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছি, আমরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। সেই ক্ষতির পরিমাণ আমরা সুন্দরবনের ধ্বংস বাড়াচ্ছি। নদী দখল করে, নষ্ট করে বাড়াচ্ছি।

যেখানে–সেখানে যেকোনো কিছু তৈরি করে ক্ষতি বাড়াচ্ছি। আমাদের আত্মসম্মানেরও প্রশ্ন যে আমরা তাদের কাছে অনবরত অর্থ চাচ্ছি। ক্ষতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য অর্থ দাও। এদিকে আমরা আবার সবকিছু ধ্বংস করে ফেলছি। সেটা তো হতে পারে না। আমাদের দ্বৈত নীতি, এটা অস্বচ্ছতা। এখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আমরাও যেন দৃঢ়ভাবে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারি।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি হোক বা অনবায়নযোগ্য জ্বালানি, সেটা এমন জায়গায় করা উচিত হবে না, যাতে অনেক মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এমন এক জায়গায় করা হয়েছে, যেটা ঘনবসতিপূর্ণ। পাবনার ঈশ্বরদীর সেই জায়গা এখন পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, অনেকেই ঘুরতে যান। অথচ সেটা যে কত বড় ঝুঁকি হিসেবে তৈরি হয়ে আছে, সেটা আমরা অনুধাবন করতে পারছি না।’

দেশের নীতিনির্ধারকদের একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে উল্লেখ করে সুলতানা কামাল বলেন, জ্বালানি বিষয়ে নীতি প্রণয়নের আগে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে গবেষক ও বিজ্ঞানীদের আলোচনা করা দরকার। কারণ, সেই নীতি জনবান্ধব না হলে তার নেতিবাচক প্রভাব ব্যক্তিপর্যায়ে পড়ে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘একদিকে আমরা বিশ্বের কাছে হাত পাতছি যে আমরা পরিবেশগতভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছি, আমাদের সাহায্য দিন। আবার আমরা নিজেরাই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছি। আমাদের নিজেদেরও দেখানোর প্রয়োজন আছে, বৈশ্বিক ঝুঁকির জায়গা থেকে আমাদের সংকটের জায়গায় নিজেরাও বৈশ্বিক সংকটের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।’

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করার স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে বড় সম্ভাবনা, সেটিকে বিভিন্নভাবে খাটো করে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। এই জায়গা থেকে সরে আসা দরকার। তবে এ বিষয়ে আলোচনা বাড়ছে।’

পাবনার ঈশ্বরদীর সেই জায়গা এখন পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, অনেকেই ঘুরতে যান। অথচ সেটা যে কত বড় ঝুঁকি হিসেবে তৈরি হয়ে আছে, আমরা অনুধাবন করতে পারছি না।
সুলতানা কামাল, বাপার সভাপতি

বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্কের (বেন) প্রতিষ্ঠাতা ও সম্মেলন আয়োজক কমিটির কো–চেয়ারপারসন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার দেশের ভেতরে পরিবেশবাদীদের আন্দোলনে তেমন একটা মনোযোগ না দিলেও, আন্তর্জাতিকভাবে যখন এ ধরনের দাবি ওঠে, তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়। তিনি বলেন, সরকার কয়লার ব্যবহার থেকে কিছুটা সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এগিয়ে যাচ্ছে।’

বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, ‘দেশের যেখানেই বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়, তার জন্য কাঁচামাল লাগে, নির্মাণসামগ্রী আনতে হয়, সব জায়গায় দেখছি, নদীর সঙ্গে বড় বিরোধ হচ্ছে। নদীর জায়গা দখল করে নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে বা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সেগুলো নবায়নযোগ্যের ক্ষেত্রেও হয়। তিস্তা নদীর ওপরে সাত থেকে আটটি নির্মাণকাজ হচ্ছে, যেগুলো নদীর জায়গায়।’

জ্বালানির প্রকল্পগুলো কোথায় হওয়া উচিত, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দরকার উল্লেখ করে বাপার যুগ্ম সম্পাদক ও ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ বলেন, পরিবেশ কীভাবে রক্ষা করা যায় এবং জ্বালানি সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। বিজ্ঞান, বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞজনের আলোচনার ভিত্তিতে জ্বালানি বিষয়ে নতুন নীতি নির্ধারণ করতে হবে।

ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে কারিগরি অধিবেশন কমিটির সহযোগী আহ্বায়ক অধ্যাপক আহমেদ বদরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। বিদ্যুৎকেন্দ্র কোথায় স্থাপন করতে হবে, এটা অত্যন্ত জরুরি একটা প্রশ্ন।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন