বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই গৃহবধূর স্বামী আমার পরিচিত। ফোনে তিনি ঘটনাটি জানালেন গত জুলাইয়ের ২৬ তারিখে। তাঁর বাড়ি রংপুরের এক নিভৃত গ্রামে।

লম্বা লেজের এই দুঃসাহসী, কুশলী ও তুখোড় শিকারি পাখিটির নাম হাঁড়িচাঁচা। আরও কিছু নামে ডাকা হয় পাখিটিকে। যেমন কুটুমপাখি। এ পাখির ইংরেজি নাম রুফাস ট্রিপাই। বৈজ্ঞানিক নাম Dendrocitta vagabunda। চওড়া ধরনের লম্বা লেজটির যে দৈর্ঘ্য, শরীরের দৈর্ঘ্যও প্রায় তা–ই, সব মিলে ৫০ সেন্টিমিটার। ওজন ১১৫ গ্রাম।

চেঁচামেচি ও ধমক-ধামকে মহা ওস্তাদ পাখিটি একই সঙ্গে ‘ডাকাত’ স্বভাবের ও সুকৌশলী ‘হাইজ্যাকারও’। হয়তো একটি শঙ্খ বা সাদা চিল অথবা দাঁড়কাক হাঁস-মুরগির ছানা নিয়ে পালাচ্ছে আকাশপথে। নজরে পড়লে এক জোড়া হাঁড়িচাঁচা ধাওয়া করবে। পরিকল্পিতভাবে একটি ওপরে বা পাশে, অন্যটি নিচের দিক থেকে প্রচণ্ড ‘ধমকাতে’ থাকে। সুযোগ পেলে ঠোকর ও আঁচড় দেবে। আকাশে তখন যেন যুদ্ধবিমানের লড়াই চলছে। ‘নাছোড়বান্দা’দের হাত থেকে বাঁচতে ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ বলে কাক-চিলেরা শিকার ফেলে পালায়। পড়ন্ত শিকার ‘অ্যাক্রোবেটিক’ কৌশলে মাঝেমধ্যে শূন্য থেকেই মুখে ধরে ফেলতে পারে হাঁড়িচাঁচা। গেছো ইঁদুর ও কাঠবিড়ালির বাসায় হানা দিয়ে পা-ঠোঁটে ছিঁড়ে ফেলে নির্মমভাবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক কাঠবিড়ালি ও গেছো ইঁদুর বন-বাগানের ভেতর দিয়ে ঝড়ের বেগে ধাওয়া করে পাকড়াও করে। এদের ডাক শুনলেই নিরীহ ছোট পাখি ভয় পায়। গ্রামবাংলার কোথাও কোথাও এখনো এই ধারণা আছে—এই পাখি বাড়ির সীমানায় ডাকলে সে বাড়িতে ঝগড়াঝাঁটি লাগবেই।

কাকের জাতভাই এই পাখি সারা বাংলাদেশেই আছে। ঢাকা শহরেও দেখা মিলবে। বসন্ত থেকে বর্ষাকাল পর্যন্ত এরা উঁচু গাছে ডালপালা দিয়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে চার-পাঁচটি। ডিম ফুটে ছানা হয় ১৬ থেকে ১৯ দিনে। ডিম পাড়ার পর থেকে ছানা ফোটা ও ছানাগুলো উড়তে না শেখা পর্যন্ত এ পাখি বাসার চারপাশে তো বটেই, আকাশসীমানা দিয়েও কোনো শত্রুপাখিকে যেতে দিতে চায় না।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন