পরিবেশের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা দ্বিমুখী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আজ শনিবার দুপুরে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

default-image

যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনাবিষয়ক কর্মজোট ও ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ। পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও প্রশমনভিত্তিক ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’য় নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


রিজওয়ানা হাসান সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোকে বলছি কার্বন নির্গমন কমানোর জন্য, অথচ কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে নিজেরা নির্গমন বাড়িয়ে চলেছি। আমাদের এই দ্বিমুখী অবস্থান নৈতিক নয়। আমরা যেহেতু জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছি, আমাদের নিজেদের নির্গমন কমানোর জন্য আগে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা উন্নত দেশগুলোকে নিয়মনীতির কথা বলছি। কিন্তু নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামভুক্ত (সিভিএফ) দেশগুলোও জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার (সিপিপি) চারটি স্তম্ভ অনুসরণ করবে। এই চার স্তম্ভ হলো কার্বনসাশ্রয়ী অবকাঠামো; নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ঘাতসহিষ্ণু বিনিয়োগ; অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা ও বিমা এবং টেকসই কর্মসংস্থান।

default-image

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যানে বলা আছে, বাংলাদেশ কার্বন নিউট্রাল হওয়ার চেষ্টা করবে। আবার একই জায়গায় বলা আছে, পরিবেশবান্ধব কয়লা প্রকল্প নেওয়া হবে। অর্থাৎ নির্দ্বিধায় আমাদের যে স্ববিরোধিতা, এগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘দেশের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে নদী, জমি, খাল, চর দখল একধরনের রাজনৈতিক চরিত্র পেয়ে গেছে। এটা প্রতিরোধের ক্ষমতা সমাজের নেই, রাষ্ট্রের নেই, বিচার বিভাগের নেই, আইনের নেই। এই অবস্থায় আমরা একটা দলিলের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারব, সেটা খুব হালকা ও হাস্যকর কথা হয়ে যায়। আমাদের প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য গুরুত্ব দিতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে ১৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ ঘোষণা করবেন, তাতে দূষণকারী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সময়সীমা (কোল ফেজ আউট) নির্ধারণ করার জন্য দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশে ১০০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য কর্মপরিকল্পনা, নীতিকাঠামো ও অর্থায়ন পরিকল্পনা ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সম্মানসূচক নির্বাহী পরিচালক এম জাকির হোসেন খান। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশের সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।

বিজ্ঞাপন
পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন