ফলের নাম জাবোটিকাবা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুর হর্টিকালচার সেন্টারে ফল ধরে আছে জাবোটিকাবা গাছে। সপ্তাহ খানেক আগে ছবিটি তোলা l ছবি: প্রথম আলো
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুর হর্টিকালচার সেন্টারে ফল ধরে আছে জাবোটিকাবা গাছে। সপ্তাহ খানেক আগে ছবিটি তোলা l ছবি: প্রথম আলো

লটকনের মতো গাছের ডালে ডালে লেপ্টে থাকে। দেখতে মার্বেলের মতো গোল।
ফলটির নাম জাবোটিকাবা। ব্রাজিলের একটি জনপ্রিয় ফল। ব্রাজিলের কালো আঙুরও বলা হয় একে। কেবল ব্রাজিল নয়, আর্জেন্টিনা, পেরু, বলিভিয়া, প্যারাগুয়েতেও যথেষ্ট আদরণীয় এই জাবোটিকাবা। এই জাবোটিকাবা আছে বাংলাদেশেও। তবে সংখ্যায় খুব কম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুর হর্টিকালচার সেন্টারে তিনটি জাবোটিকাবার চারা রোপণ করা হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। কে বা কারা এ ফলের চারা সংগ্রহ করে এখানে রোপণ করেছেন, সেই ইতিহাস এখানকার বর্তমান কর্মকর্তাদের জানা নেই। তবে তাঁদের দাবি, বাংলাদেশে জাবোটিকাবার সৃষ্টি এই হর্টিকালচার সেন্টারেই। এখান থেকেই অল্প কিছু ছড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এখানকার তিনটি গাছের দুটি মারা যায় ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পানিতে ডুবে। বাকি একমাত্র গাছটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাবোটিকাবার ফলবান গাছ।
কল্যাণপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক সাইফুর রহমানের মতে, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যকর উপাদান প্রাপ্তির বিচারে জাবোটিকাবা পৃথিবীর উৎকৃষ্ট ফলগুলোর একটি। এ ফলে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নানা ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে। প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন সি ছাড়াও রয়েছে ফসফরাস, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ভিটামিন-ইসহ বিভিন্ন প্রকারের বি-ভিটামিন। রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান। সাইফুর রহমানের ভাষ্য, এত সব প্রয়োজনীয় উপাদানসমৃদ্ধ ফল খুব কমই আছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের হর্টিকালচার সেন্টার ছাড়াও জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ ও রংপুরের রহনপুরের বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারে রয়েছে জাবোটিকাবার ফলবান গাছ।
কৃষিবিদ সাইফুর রহমান আরও জানান, এ ফল শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। স্থূলতা বা ওজন কমায়। দূর করে কোষ্ঠকাঠিন্য। শক্ত করে দাঁত ও হাঁড়ের গঠন। হজমে সহায়তা করে। গর্ভবতী মায়েদের জন্য খুবই উপকারী। সর্বোপরি জাবোটিকাবা শরীরে তারুণ্য আনে। অর্থাৎ বয়স কমায়। রক্তে শর্করা কমায়।
তবে এই ফলবান গাছটি সারা দেশে এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। এর কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে সমন্বিত মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এস এম কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ গাছ বাড়ে খুব ধীরে ধীরে। ১০-১২ বছরের আগে ফল দেয় না। ফলে শোখিন ফল বাগানপ্রেমী মানুষ ছাড়া অনেকেই আগ্রহ দেখান না। তা ছাড়া জাবোটিকাবা সম্পর্কে জানেন খুব সংখ্যক মানুষ। যার প্রচার নেই, তার প্রসারও নেই।
এস এম কামরুজ্জামান জানান, শুধু ফল নয়, জাবোটিকাবার জুস-জেলি খুবই জনপ্রিয়।
জাবোটিকাবা গাছে ফুল আসে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। এক মাসের মধ্যেই ফুল পরিপক্ব ফলে পরিণত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে এর চারা পাওয়া যায়।