আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হোক বা না হোক, আগামী এক সপ্তাহ দেশের আবহাওয়া অস্থির থাকতে পারে। সাগরে একদিকে নিম্নচাপের আশঙ্কা। আর দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত কালবৈশাখী ও বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দিনে আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় দেশের বেশির ভাগ এলাকার তাপমাত্রা বা গরম আরও বাড়তে পারে। ফলে সাগর থেকে পাহাড়—সব স্থানেই বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, লঘুচাপটি দ্রুত নিম্নচাপে পরিণত হয়ে আগামী দু–তিন দিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে এগোতে পারে। ফলে আগামী দু–তিনের আগে নিশ্চিত করে বলা যাবে না সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে শেষ পর্যন্ত কেমন শক্তি নিয়ে কোথায় আঘাত করতে পারে। আন্দামান সাগরের যে এলাকায় লঘুচাপটি তৈরি হয়েছে, সেখানকার তাপমাত্রা গতকাল ছিল ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি রোববার রাতের মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে সামগ্রিকভাবে সারা দেশে কালবৈশাখী ও বৃষ্টি বাড়তে পারে।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দেশের বেশির ভাগ স্থানের গড় তাপমাত্রা বাড়লেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দমকা হাওয়ায় কিছুটা স্বস্তিকর আবহাওয়া বিরাজ করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল দেশের বেশির ভাগ এলাকার তাপমাত্রা বেড়েছে। অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিও ঝরেছে। একই সঙ্গে দেশের আটটি জেলায় দমকা হাওয়া ও কালবৈশাখী বয়ে গেছে। রাজধানীতেও বিকেলের দিকে দমকা হাওয়া বয়ে যায়। তবে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারের চেয়ে কম।

গতকাল বেলা তিনটা পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সন্দ্বীপে—৯৪ মিলিমিটার। এ ছাড়া দিনাজপুরে ৩২, বগুড়ায় ২৪ ও নঁওগায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে। আর রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে চার মিলিমিটার। দেশের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে—৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন