শরতে কাশের সমারোহ

কাশফুল। খিলক্ষেতের বনরূপা এলাকা থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তোলা l আশরাফুল আলম
কাশফুল। খিলক্ষেতের বনরূপা এলাকা থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তোলা l আশরাফুল আলম

স্বপ্ন ও শুভ্রতার প্রতীক হয়ে শরৎ আসে। বর্ষার অঝোরধারার পর শরতের সতেজ মাটিতে গাছপালা খুঁজে পায় ঝলমলে রোদ। পথের দূর্বাঘাসে শিশিরের আলপনা জাগে। আমাদের ডেকে যায় শরতের শান্ত প্রকৃতি গাঢ় নীল আকাশ ও শুভ্র প্রাণের কাশফুল।
এখন দূরতর আকাশে মেঘের দল ভেঙে গিয়ে উঁকি দিচ্ছে নীলের উজ্জ্বলতা। শরতের সেই শুভ্র মেঘের নরম নীল আকাশ আবার এসেছে ফিরে। বাংলার কোনো বয়ে চলা নদীর চরে ফুটেছে শুভ্র নরম কাশফুল। যে শুভ্রতা ছুঁয়ে গেছে আমাদের মনে ও বাংলার রূপে। নদীতীরে বাতাসে ঢেউখেলা সেই কাশের সারি, কাশফুল ছুঁয়ে দুরন্ত শিশুর মায়াবী হাসি, কাশবনে বাবুই, মুনিয়া পাখিদের ওড়াউড়ি দুই চোখ ভরে দেখে নিচ্ছে মানুষ।
কাশ বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফুলের মধ্যে একটি। একটি ঘাস তার ফুল দিয়ে আমাদের মন জয় করে নিয়েছে। আমাদের শিখিয়েছে কোমলতা ও সরলতা। পৃথিবীতে কোনো ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের ফুলের এত কদর এবং মানুষের জয় করে নেওয়ার এই আবেদন আছে কি না, জানা নেই। বাংলা সাহিত্যে এ ফুলের উপস্থিতিও ব্যাপক।
ঢাকার আকাশে শরতের বিকেলে দেখা যায় ভুবন চিলের ডানাগুলো। তবু এই শরতে আমাদের মন ছুটে যায় সবুজ ঘাসের ওপর নুয়ে পড়া কাশবনে। শরতের উদ্ভিদরাজ্যে নীলের নীলিমা কম, শুভ্রতাই বেশি। তবে সে অভাব ঘুচিয়ে দেয় নীলাকাশ।
কাশ ঘাস পরিবারে ফুল। সাধারণত নদীর চরে কাশবন দেখা যায়। আমাদের দেশে সাধারণত তিন প্রজাতির কাশ রয়েছে। সমতলে এক প্রজাতি এবং পাহাড়ে দুই প্রজাতি। তবে সবার কাছে সমতলের প্রজাতিটি প্রিয় এবং সহজে দর্শনযোগ্য। ঢাকার চারপাশে ভূমিদস্যুদের আবাসন প্রকল্পের নামে প্রাকৃতিক জলা বালু দিয়ে ভরাট করার ফলে আমাদের অনেক জলজ প্রজাতির পাখি অন্যত্র চলে গেছে। তবে এসব বেলাভূমিতে এখনো কাশের প্রাধান্য বেশি। নদীর বালুমাটির সঙ্গে কাশের বীজ চলে আসায় এসব জায়গায় এ ঘাস সহজেই জন্মায়। শরতে উত্তরা, বসুন্ধরা, পূর্বাচল, কেরানীগঞ্জ এলাকায় গেলে কাশবন দেখা যাবে। এসব কাশবন কোনো কংক্রিটের স্থাপনায় অচিরেই ঢেকে যায়।
কাশ ঘাসের বৈজ্ঞানিক নাম saccharum spontaneum। ইংরেজি নাম Kans grass। বাংলাদেশের নোনাজলের নদীমোহনা বাদে প্রায় সব নদীর চরে, প্রাকৃতিক জলাশয়ের ধারে কাশ জন্মে। ভাদ্র-আশ্বিনের প্রকৃতিতে শরৎ আকাশজুড়ে নরম সাদা মেঘের ভেলা হয়ে ঘুরে বেড়ায় পালতোলা নৌকার মতো, হেমন্তের কার্তিকেও শরতের রেশটুকু যেন শেষ হতে চায় না।