ঘাড়-গলা-বুক বাদে দুই রূপের পাখিদের মধ্যে অন্য কোনো পার্থক্য নেই। দুটিরই চঞ্চু কালো, চোখ ফিকে নীল এবং পা ও পায়ের পাতা হালকা খয়েরি। অপ্রাপ্তবয়স্কগুলোর কপাল কালচে-জলপাই, ডানার প্রান্ত-পালক বাদামি, থুতনি ও গলা জলপাই-হলুদ। স্ত্রী ও পুরুষ দেখতে একই রকম। প্রাপ্তবয়স্ক পাখিগুলো দৈর্ঘ্যে ১৬-১৮ সেন্টিমিটার ও ওজনে ২০-৩০ গ্রাম।

একসঙ্গে কালোমাথা পাখিগুলোর দুটি রূপের প্রথম দেখা পাই রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে ২০১৪ সালের ৮ মার্চ। তখন ভেবেছিলাম, ওরা দুটি আলাদা প্রজাতি। কিন্তু পরে জানা গেল, ওরা দুই রূপের একই প্রজাতির পাখি। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ পাহাড়ি বনের এই বাসিন্দাদের সচরাচর বন, বনের প্রান্ত ও ক্ষুদ্র ঝোপঝাড়ে একাকী বা ছোট দলে বিচরণ করতে দেখা যায়। তবে এ পর্যন্ত আমি ওদের একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি দেখেছি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে। দিবাচর ও বৃক্ষচারী পাখিগুলো ছায়াঘেরা বনে গাছের ডাল থেকে ডালে লাফিয়ে ও গাছের তলার লতাগুল্ম থেকে পোকামাকড় ও রসাল ফল সংগ্রহ করে খায়। সচরাচর তীক্ষ্ণ কণ্ঠে ও মনোরম সুরে ‘চিম্প-চ্যাপ-র্চিপ...’ স্বরে ডাকে।

এপ্রিল থেকে মে প্রজননকাল। এ সময় গাছের ইংরেজি ওয়াই আকারের শাখা, আখগাছ বা ঝোপঝাড়ে, মরা পাতা ও সরু ঘাস বিছিয়ে কাপের মতো ছোট্ট বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ২-৩টি; রং ফিকে পাটকিলে। প্রায় ১৪ দিন তা দেওয়ার পর ডিম থেকে ছানা ফোটে। ডিমে তা দেওয়া ও ছানাদের লালন–পালন মা-বাবা মিলেমিশে করে। ছানারা ২০-২২ দিনে উড়তে শেখে। আয়ুষ্কাল ৬-৮ বছর।

কাপ্তাই ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দেখা দুই রূপের এই কালোমাথা পাখিগুলো এ দেশের সচরাচর দৃশ্যমান আবাসিক পাখি কালোমাথা বুলবুলি। ইংরেজি নাম ব্ল্যাক-হেডেড বুলবুল।

পিকনোনোটিডি গোত্রের প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম Brachypodius atriceps। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও চীনের দক্ষিণাঞ্চলব্যাপী পাখিটির আবাসিক এলাকা বিস্তৃত।

আ ন ম আমিনুর রহমান, পাখিবন্য প্রাণী চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন