‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুর মধ্যে শপথ নিতে হবে নতুন সংসদ সদস্যদের, ঢাকার দূষণ রোধে কী করবেন তাঁরা
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় যখন এ প্রতিবেদন লেখা হচ্ছে, তখন বিশ্বের ১২১ শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে দ্বিতীয় ঢাকা। বায়ুর মান ২৬০। বায়ুর এই মানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিষয়টা এমন নয় যে আজই ঢাকার বায়ুর মান এতটা খারাপ। ঢাকায়, বিশেষ করে শুকনা মৌসুমে এটা নৈমিত্তিক ঘটনা। আর এটা চলে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে।
বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।
আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ হবে পর্যায়ক্রমে। এরপর বিকেল চারটায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে। ঐতিহ্যগতভাবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিকতা হতো বঙ্গভবনের দরবার হলে। এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রম ও ‘প্রতীকী’ ঘটনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সংসদ সদস্যরা যখন গাড়িতে করে সংসদ ভবনে আসবেন, তখন তাঁদের সেই দূষিত বায়ুর মধ্য দিয়েই আসতে হবে। সংসদ ভবনের কাছাকাছি এলাকা ধানমন্ডিতে সকালের দিকে বায়ুর মান ছিল ২৯০। বায়ুদূষণের মাত্রা ২০০-এর বেশি হলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়; আর ৩০০ হয়ে গেলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য করা হয়।
আজ বিকেলে খোলা আকাশের নিচে যখন মন্ত্রীদের শপথ হবে, তখনো তাঁদের শপথ নিতে হবে দূষিত বায়ুর মধ্যে। বিকেলে বায়ুর মানে সকালের চেয়ে কিছুটা হেরফের হতে পারে। তবে নির্মল বায়ু যে সে সময়ে থাকবে না, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। গতকাল সোমবার দিনভর ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুর মধ্যে কেটেছে নগরবাসীর। আজও তেমনটাই থাকবে, তা প্রায় নিশ্চিত।
ঢাকার বায়ুদূষণ ভয়াবহভাবে বাড়ছে। বায়ুদূষণে ২০১৯ সালে দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে মোট দেশজ উৎপাদনের ক্ষতি প্রায় ৮ শতাংশ বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সরকারের সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কিন্তু সেসবে কোনো কাজ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। ঢাকা বা দেশের অন্য কোনো স্থানে দূষণ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি চোখে পড়ার মতো। নতুন সরকার দূষণ রোধে কী করতে পারে?
আজ সকালেই এ নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালামের সঙ্গে। বায়ুদূষণ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণার কাজ করছেন তিনি। অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকাসহ দেশের বায়ুদূষণের অবস্থা কী, দূষণের উৎস কী, কী করতে হবে—এসব আমাদের জানা; কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, তাঁরা দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কিছু করবে। নির্বাচনী ইশতেহারে একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের কথা বলেছে বিএনপি। তাদের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে বলে আমরা আশা করি।’
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘বিএনপির লক্ষ্য হলো একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত বাংলাদেশ।’
দেশের সর্বত্রই বায়ুদূষণ বাড়ছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে আজকাল ঢাকার বাইরের অন্যান্য এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি থাকছে। যেমন আজ খুলনার বায়ুমান ২৭৫। উপকূলের এ শহর ছাড়াও ঢাকার বাইরের অনেক স্থান বায়ুদূষণে অনেক সময় ঢাকাকে ছাড়িয়ে যায়।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যেসব কার্যক্রম আছে, তা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। তবে এসব কার্যক্রমের তেমন কোনো ফল নেই।
বায়ুদূষণে আজ বিশ্বের নগরগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে আছে সেনেগালের ডাকার, স্কোর ৪৭৩।