এবার গিয়ে দেখি চা জাদুঘরটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাঁর ব্যবহৃত চেয়ারটি আর দেখা হলো না। তাতে কী, প্রবাদ আছেÑ ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’। আমি ঘুরে ঘুরে চারপাশের পরিণত গাছগুলো দেখতে থাকি। হঠাৎ করেই পুরোনো ভবনলাগোয়া মাঠের ধারে ফুলসহ একটি অচেনা গাছে চোখ আটকে গেল। গাছটির পাতা ও ফুল বেশ সুশ্রী।

ফুলের থোকা, পাতার গড়ন ও গাছটির বিন্যাস একেবারেই আলাদা। ছুটির দিন হওয়ায় গাছটি সম্পর্কে কোনো তথ্য জোগাড় করা গেল না। পরে অবশ্য গাছটিকে আফ্রিকান মাখনগাছ হিসেবে শনাক্ত করি। কারণ, জন্মস্থানে এ গাছের ফল থেকে একধরনের মাখন তৈরি করা হয়।

এই মাখন গাছ (Pentadesma butyracea) পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে ক্যামেরুন পর্যন্ত বিস্তৃত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আফ্রিকার বনাঞ্চলের স্থানীয় বৃক্ষ। এ গাছ থেকে ‘kpangnan মাখন’ নামক একধরনের মাখন তৈরি হয়। চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, গাছটি ২০০০ সালের দিকে ইনস্টিটিউটের তৎকালীন পরিচালক ড. এস এ রশিদ অস্ট্রেলিয়া থেকে সংগ্রহ করেন। কিন্তু কর্মস্থল পরিবর্তন হওয়ায় তিনি তখন গাছটি লাগাতে পারেননি।

পরবর্তী পরিচালক ড. বদরুল আলম গাছটি রোপণ করেন। রোপণের কয়েক বছর পর থেকে গাছে ফুল ফুটতে শুরু করে। এ বছরও ফুল শেষে ফল এসেছে গাছে। মূলত এই ফল থেকেই তৈরি হয় মাখন। তবে কাঠবিড়ালীর প্রিয় খাবার হওয়ায় এ গাছে পরিপক্ক অবস্থায় ফল খুব একটা দেখা যায় না।

সুদর্শন এই বৃক্ষ প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পশ্চিম আফ্রিকার টোগো ও বেনিনে এই গাছের ফল থেকে তৈরি মাখন বিক্রি হয়। আবার মাঝেমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেও এই মাখন ‘হলুদ মাখন’ নামে বিক্রি হয়। kpangnan মাখনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ স্টিগমাস্টেরল সামগ্রী।

এতে উদ্ভিদ স্টেরলের পরিমাণ শতকরা ৪৫ ভাগ। স্টিগমাস্টেরল হলো একধরনের উদ্ভিজ্জ চর্বি, যা সাধারণত বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ ও ফল অংশে পাওয়া যায়। যেমন ক্যালাবার বিন, সয়াবিন তেল, রেপসিড তেল ও কোকো মাখন।

গবেষণায় দেখা যায়, স্টিগমাস্টেরল ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারসহ কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে এই মাখনের বহুমাত্রিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কাঠের আসবাব তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়। এই মাখন তিন বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

মোকারম হোসেন, প্রকৃতিপরিবেশবিষয়ক লেখক

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন