ঈদের দিন কোথায় কোথায় বৃষ্টি হতে পারে

বৃষ্টিতে শিশু-কিশোরেরা ফুটবল খেলায় মেতেছে সড়কেফাইল ছবি: প্রথম আলো

মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশের আগের এ সময় প্রকৃতির ‘বেহিসাবি’ আচরণ চোখে পড়ছে। এটাকে এ সময়ের বৈশিষ্ট্য বলেই মনে করেন আবহাওয়াবিদেরা। সে বৈশিষ্ট্য হলো, কোথাও প্রচণ্ড গরম আবার কোথাও ঝুম বৃষ্টির পর কিছুটা শীতল পরিবেশ।

প্রায় সাত দিন ধরে এ ভিন্নমুখী আচরণ বেশি চোখে পড়ছে। ঈদের দিনও দেশের ভেতরে আবহাওয়ার এমন বৈপরীত্য থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আবহাওয়াবিদদের যা পূর্বাভাস, তাতে দুই বিভাগ বাদ দিয়ে দেশের বেশির ভাগ স্থানে কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি হতে পারে রাজধানীতেও। কিন্তু কখন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণটা সেই ‘বেহিসাবি’ আচরণ।

মৌসুমি বায়ু সাধারণত দেশে প্রবেশ করে মে মাসের একেবারে শেষে বা জুন মাসের শুরুতে। গত বছর অবশ্য একটু আগেই চলে এসেছিল বৃষ্টি ঝরানো এ বায়ু। দেশের বেশির ভাগ বৃষ্টিই হয় এ সময়। এ সময় ঝড়বৃষ্টির পরিবেশে মোটামুটি একটা ভারসাম্য আসে। এর আগে দক্ষিণা বায়ুর সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপের অনবরত সংঘাতে প্রকৃতিতে একধরনের এলোমেলো অবস্থা চলতে থাকে।

এমন একটা পরিবেশের মধ্যেই এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। গতকাল মঙ্গলবার আনন্দের এ ঈদের দুই দিন আগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতেই সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকা বাদ দিয়ে দেশের প্রায় সর্বত্র বৃষ্টি হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের অন্তত চার বিভাগের বেশির ভাগ স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে আছে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগ। বৃষ্টি হতে পারে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও। তবে এই দুই বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, ঈদের দিন অপেক্ষাকৃত শুকনো থাকতে পারে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ।

রাজধানী ঢাকায় ঈদের দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর। তিনি জানান, ঈদের আগের দিন রাতে রাজধানীতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

তবে রাজধানীতে বৃষ্টিটা ঠিক কখন হবে, তা নিশ্চিত নয়। এটা সকালে না হলেও বিকেলে হতে পারে বলে জানিয়েছেন বজলুর রশীদ।

সকাল বা বিকেল, ঠিক কখন হতে পারে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলার ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, এ সময়ের প্রকৃতি। বজলুর রশীদ বলেন, এবার পশ্চিমা লঘুচাপ অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত এ লঘুচাপের প্রভাব প্রায় ছিলই না। তাই তেমন কোনো বৃষ্টিও হয়নি। এটা অনেকটাই অস্বাভাবিক। আবার দেখা যাচ্ছে, মার্চের পর থেকে এ পশ্চিমা লঘুচাপের বিরামহীন প্রভাব চলছে। সেটাও অনেক সময় ঘটে না। এবার হচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুটা হয় বৃষ্টি দিয়ে। তবে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই তাপপ্রবাহ শুরু হয়। রাজধানীতেও তাপপ্রবাহ দেখা যায়। বেশি দিন ধরে তাপপ্রবাহ ছিল দক্ষিণের জেলাগুলোয়। গত সোমবারও খুলনা বিভাগের চার জেলায় এবং লক্ষ্মীপুরে তাপপ্রবাহ ছিল। তবে গতকাল সে তাপপ্রবাহ কমে যায়। গতকাল শুধু বাগেরহাটের মোংলায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। অর্থাৎ তাপপ্রবাহ ছিল। কিন্তু আবহাওয়া অফিস এদিন এ এলাকায় তাপপ্রবাহ বলে গণ্য করেনি। কারণ, মাত্র একটি দিন একটি এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে এমন তাপ বয়ে গেলে তাকে তাপপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয় না।

আজ বুধবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত বেশি বৃষ্টি হতে পারে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে।