পরদিন ভোরে হোটেলের পাশ দিয়ে বয়ে চলা থিম্পু চু-এর পারে বেশ কিছু অদ্ভুত পাখি দেখলাম। দুপুরের খাবার সেরে সোজা চলে গেলাম বুদ্ধ পয়েন্টে। ওখান থেকে মেমোরিয়াল চর্তেন হয়ে আঁকাবাঁকা পথে চলে গেলাম মতিথাং টাকিন প্রিজার্ভে ভুটানের বিশেষ আকর্ষণ জাতীয় প্রাণী দেখতে।

যদিও ভ্রমণতালিকায় মতিথাং অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিন্তু ভুটান যাব আর এমন একটি অদ্ভুত প্রাণী দেখব না, তা কি হয়? গাইডকে রাজি করিয়ে মতিথাং পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে চারটা বেজে গেল। প্রিজার্ভের গেটে নেমে প্রায় দৌড়ে টিকিট কাউন্টারে গেলাম।

টিকিট বিক্রেতা বললেন, ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রিজার্ভ বন্ধ হয়ে যাবে, এটুকু সময় কি তোমার পোষাবে? আমি বললাম, কষ্ট করে এত দূর এসেও যদি প্রাণীটিকে দেখতে না পারি, তাহলে সারা জীবন আফসোস থাকবে।

আমার কথা শুনে দ্রুত টিকিট দিয়ে বললেন, সামনে এগিয়ে যাও। আমি প্রায় দৌড়ে ওপর দিকে উঠলাম। তবে বেশি দূর যেতে হলো না। একটি সিঁড়ির মতো উঁচু জায়গা পেয়ে উঠে পড়লাম। আর সঙ্গে সঙ্গেই কাঙ্ক্ষিত প্রাণীটির দেখা পেলাম। বড় বড় গাছের নিচে ঘেসো মাঠে একসঙ্গে ১৫ থেকে ২০টি বিভিন্ন বয়সের প্রাণী চরে বেড়াচ্ছে।

সঙ্গে ছোট বাচ্চাও ছিল। প্রাণীগুলো বেশ অদ্ভুত, তবে একেবারেই নিরীহ! আকার নেহাত মন্দ নয়। দেখতে না গরু, না ছাগল! যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওদের ছবি তুললাম ও ভিডিও করলাম। মুখে ১৫ মিনিট বললেও পাক্কা আধ ঘণ্টা সময় দিল আমাকে, যাতে ভালো করে ওদের ছবি তুলতে পারি।

অদ্ভুত দর্শন টাকিন হলো এক প্রজাতির অ্যান্টিলোপ, যারা ছাগল-ভেড়ার নিকটাত্মীয়। দেখলে মনে হবে যেন গরু ও ছাগলের সংকর। নু গোট বা ক্যাটল চ্যামোইস নামেও পরিচিত। ২০০৫ সালের ২৫ নভেম্বর টাকিনকে ভুটানের জাতীয় প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আ ন ম আমিনুর রহমান, পাখিবন্য প্রাণী প্রজনন বিশেষজ্ঞ

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন