এরপর তিনটি ছানার চোখ ফুটল, শরীরে পালক গজাল ও পাখা বড় হতে লাগল। তখন তিনি সেগুলো খাঁচায় রাখলেন। ছানাগুলো নিজেই খেতে শিখল। লাফালাফি করে একসময় ওড়াউড়ি শিখল। ছানাগুলো তখন খাঁচা থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে উড়তে চায়।

গত ২০ জুলাই মোখলেস ফোন করলেন আমাকে। কথা হলো অনেকক্ষণ। তিনি স্থানীয় ওয়াইল্ডলাইফ মিশনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। আমার পরামর্শমতো সাড়ে চার মাস পরে ২১ জুলাই সকালে তিনটি ছানাকে তিনি অবমুক্ত করেন। আনন্দে তখন তিনি কেঁদে ফেলেন। আহ্‌ শান্তি! আনন্দটা তিনি ভাগাভাগি করলেন আমার সঙ্গে। আমি তাঁকে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে বললাম। কাক-চিলের কবলে পড়তে পারে ছানাগুলো। মা-বাবার কাছ থেকে ছানাগুলো তো জীবন চালানোর প্রশিক্ষণ পায়নি। চেনে না খাদ্য ও শত্রু–মিত্র। তবে এ ছানা পাখিগুলো যদি পেয়ে যায় একই প্রজাতির পাখির ঝাঁক, তাহলে অনেক সুবিধা হবে। সম্ভাবনা এমন ছিল যে পাখি তিনটি সন্ধ্যার আগে ফিরে আসবে মোখলেসের বাড়িতে, ঢুকে পড়বে খাঁচায়। এই সম্ভাবনা থাকে সব ধরনের পোষা ছানার ক্ষেত্রে। অবমুক্ত করার আগে পালক বা বুকের সাদা পশমে যদি রং মেখে দেওয়া হতো, তাহলে ওই পাখি তিনটির অবস্থান বোঝা যেত।

অবমুক্ত করা পাখিগুলো ছিল আমাদের দুর্লভ আবাসিক পাখি সাদা–কোমর মুনিয়া। বৈজ্ঞানিক নাম Lonchura striata. দৈর্ঘ্য ১০ সেমি, ওজন ১২ গ্রাম।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন