টানা বৃষ্টির পর ঢাকার বাতাসে এত দূষণ, সুরক্ষায় কী করবেন

বায়ুদূষণফাইল ছবি

থেমে থেমে রাজধানীতে বৃষ্টি হচ্ছে গত রোববার থেকে। গতকাল শনিবারও বৃষ্টি ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে ২৮ মিলিমিটার। ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে সব প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ, তখন এই বৃষ্টিই ভরসা। কিন্তু সেই বৃষ্টির পরও এই মে মাসে দূষণ কমছে না।

আজ রোববার সকালে বিশ্বের ১২৪টি নগরীর মধ্যে ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। আইকিউএয়ারে এ সময় ঢাকার বায়ুর মান ১৫৫। সকাল সোয়া আটটায় বাতাসের এ পরিস্থিতি ছিল। বাতাসের এ মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।

বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সেই সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে। আজ বাতাসের এ দূষণ থেকে রক্ষা পেতে আইকিউএয়ার বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে।

গত রোববার বৃষ্টি হয় অনেকটা। দুই দিন খানিকটা বিরতি দিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। ওই দিন রাজধানীতে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পরিমাণ ৪৪ মিলিমিটারের বেশি হলেই তাকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়। তারপরও বাতাসের হাল ফিরছে না। এপ্রিল মাসের পর থেকেই ঢাকার বাতাসের মান ভালো হতে থাকে। এ সময় বৃষ্টি হলে দ্রুতই বাতাসের মান ভালো হয়। এপ্রিল পেরিয়ে মে মাস এসে গেল, তারপর এত বৃষ্টি। কিন্তু বাতাসের মান ততটা উন্নত হচ্ছে না।

আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে আছে পাকিস্তানের লাহোর। এ নগরীর বায়ুর মান ৮৯৯। দ্বিতীয় স্থানে আছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, মান ১৭২।

আজ ঢাকার বেশি দূষিত এলাকাগুলো

আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে আছে উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগ। এ এলাকার বায়ুমান ২০২। বায়ুর মান দুই শতাধিক হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এরপর দূষণের তালিকায় আছে যথাক্রমে পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ী (১৯৩), ধানমন্ডি (১৮৪), গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার (১৬০), দক্ষিণ পল্লবী (১৫৬), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (১৫৩) ও গুলশান লেক পার্ক (১৫১)।

সুরক্ষায় নগরবাসী যা করবেন

আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে।