জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার দাবিতে রাজধানীতে তরুণদের ‘জলবায়ু ধর্মঘট’
‘প্রকৃতি ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই’—এই স্লোগান সামনে রেখে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবীর দাবিতে রাজধানীতে ‘জলবায়ু ধর্মঘট’ করেছেন তরুণেরা। ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এ আয়োজনে পাঁচ শতাধিক তরুণ অংশ নেন।
পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশসহ দেশের ৩০টি যুব সংগঠন এবং আটটি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ হাবের প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় তরুণ জলবায়ুকর্মীরা অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে পদ্ধতিগত রূপান্তরের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি একটি ‘দানব’ প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, এটি পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক ও জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকর প্রভাবের প্রতীক।
পাশাপাশি মাস্ক পরে জীবাশ্ম জ্বালানিজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রতীকী প্রদর্শনী করেন আন্দোলনকারীরা। পরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় শোভাযাত্রা করেন তাঁরা।
ঢাকার পাশাপাশি দেশের আরও ২৭টি জেলায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘অ্যাকটিভিস্টা’ নেটওয়ার্কের সদস্যরা জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে পদযাত্রা ও সমাবেশ করেন।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ইয়ুথ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস টিমের লিড মো. নাজমুল আহসান বলেন, ‘জ্বালানি–সুবিধা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। তরুণেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার যে আন্দোলন করছে, আমরা সেই লড়াইয়ের সঙ্গে আছি।’
প্রতিবছর ‘ফান্ড আওয়ার ফিউচার’ ক্যাম্পেইনের আওতায় বিশ্বব্যাপী ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ (বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট) পালিত হয়। এ বছরও জলবায়ু সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও কর্মসূচিটি পালিত হচ্ছে।