তাকিয়ে দেখি ছোট পাখি দুটিও আমাদের মতো ‘শিলাস্নান’ করছে। বাড়ির পাশের মাঠে, গ্রামের অন্যান্য মাঠে এই পাখিদের এভাবে উড়তে-ঘুরতে আগেপরে আরও দেখেছি, শূন্যে নৃত্যগীত করতে–করতে ঊর্ধ্বাকাশে উঠতেও দেখেছি, কিন্তু শিলাস্নানের অমন দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য আর হয়নি। সর্বশেষ বৃষ্টিস্নান দেখেছি এই বছরের জুন মাসে, পিরোজপুরের কচা নদীর পাড়ে। শিলাপাতে মাঠ-নদীতীর-বালুচর সাদা হয়ে যাওয়ার পরে গলিত পানি পান যেমন করে, তেমনি শীতল শিলাস্নানও করে এই পাখি।

বছরের যেকোনো সময়েই বাসা করে এরা। খোলা মাটির ওপরে গুচ্ছঘাসের গোড়ার ভেতরে, আলের পাশে, মেঠো ছোট ছোট উদ্ভিদের তলায় সরু শুকনা ঘাস-লতা-শিকড় ইত্যাদি দিয়ে কাপের মতো বাসা বানিয়ে তাতে ডিম পাড়ে দু-তিনটি। ডিম ফুটে ছানা হয় ১০-১৪ দিনে। বাসা বাঁধার শুরু থেকে ডিম ফুটে ছানা হওয়া পর্যন্ত পুরুষটি আকাশে উড়ে-ঘুরে আনন্দ সংগীত করে, পাখা ঝাঁকিয়ে নাচের কসরত দেখায়।

পাখিটির নাম বালুচাটা, ধুলোচাটা। মাইটে চড়ুই, মাইঠো ও কালা চড়ুই নামেও পরিচিত। শেষ নাম তিনটি বাগেরহাট অঞ্চলের। পুরুষটি দেখতে প্রায় পুরুষ চড়ুইয়ের মতো, স্ত্রী পাখিটি স্ত্রী চড়ুইয়ের মতো। নদীর পাড়ের বালুকাবেলা, ধুলাভরা মাঠ-খেত-প্রান্তর, ছোট ছোট ঘাসবন তথা শুকনা ভূমি হলো এদের প্রিয় চারণক্ষেত্র। যথেষ্ট সাহসী, নিজেদের ভেতর একটা ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব আছে। মানুষ বা শত্রু কাছাকাছি গেলে এরা শরীরের পালক ফুলিয়ে-দুলিয়ে যেন ভয় দেখাতে চায়।

নিরীহ, শান্ত এই পাখির ইংরেজি নাম Ashy-crowned Sparrow–lark. বৈজ্ঞানিক নাম Eremopterix griseus. দৈর্ঘ্য ১৩-১৫ সেন্টিমিটার। ওজন ১৬ গ্রাম। পুরুষের মাথার তালু ও চিবুক ছাইরঙা। ঘাড়-পিঠ বালু-বাদামি। চোখের ওপর দিয়ে কালো টান বয়ে গেছে পেছন দিকে, চিবুকের নিচ দিয়েও তাই-ই। বুক-পেট কালো। গোলাপি পা, ধূসর ঠোঁট। স্ত্রী পাখিটি বালু-বাদামি।

শুকনা মাটিতে হেঁটে হেঁটে খায় নানা রকম শস্যবীজ ও কীটপতঙ্গ। ধুলাবালুতে হুটোপুটি করে ধুলাবালু-স্নানও করে।

শরীফ খান, পাখি বন্য প্রাণিবিষয়ক লেখক