নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপি (তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার) ছাড়া পরিচালিত ২০ শিল্পকারখানার বৈদ্যুতিক ও গ্যাসলাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আজ বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে করা এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৫ মার্চ হাইকোর্ট শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ইটিপি (তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার) ছাড়া পরিচালিত ২০ শিল্পকারখানার বৈদ্যুতিক ও গ্যাস-লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিআইডব্লিউটিএ ওই প্রতিবেদন দাখিল করে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল। বিআইডব্লিউটিএর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনে ২০ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন। ২০টি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আরএসকে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিড ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লা নিড ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং, সোহেল ডাইং, কর্ণফুলী টেক্সটাইল মিল ও হাজী রাসুল ডাইং।
এর আগে শীতলক্ষ্যার পানিদূষণ বন্ধে ও অবৈধভাবে নদীদূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) পক্ষে তিন আইনজীবী ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল একটি রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৬ মে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দূষিত পানি ও অন্যান্য বর্জ্য যাতে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলতে না পারে, সে জন্য পদক্ষেপ নিতে মনিটরিং কমিটি গঠন এবং নদীটির পানি কী পরিমাণ দূষিত হয়েছে ও ক্ষতি নিরূপণ করে তা আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশ অনুসারে পরিবেশ অধিদপ্তর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিল করে। তাতে দেখা যায়, ইটিপি ছাড়া ২০টি প্রতিষ্ঠান তাদের শিল্পকারখানা পরিচালনা করে আসছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ইটিপি ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক ওই আবেদন দাখিল করে এইচআরপিবি।