পরে অবশ্য মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে আরও কয়েকটি গাছ দেখেছি। সবচেয়ে বেশি অভিভূত হয়েছি ঢাকায় গ্রিন রোডের গ্রিন লাইফ হাসপাতালের বিপরীত অবস্থানে সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের সীমানাদেয়াল লাগোয়া পরিণত গাছটি দেখে। গাছটি যে কেউ লাগায়নি, তা অনেকটাই নিশ্চিত করে বলা যায়।

একসময় এখানে ময়লার ভাগাড় ছিল অনেকগুলো। সম্ভবত সেখান থেকে পাখির মাধ্যমে বীজটি কোনোভাবে এখানে এসে থাকবে। পরে বীজ থেকে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মেছে গাছটি। জানামতে, দেশি বা বন–আমড়ার এই একটি গাছই ঢাকায় আছে। তবে নিরাপত্তার প্রয়োজনে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতিবছরই ডালপালা ছাঁটায় গাছটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

আমড়া মূলত দেশের অনেক পুরোনো ফল। তবে একসময় এই ফলের তেমন কদর ছিল না। কয়েক দশক ধরে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষ শুরু হয়েছে। অবশ্য আমাদের প্রকৃতিতে জন্মানো বুনো আমড়ার ব্যবহার মানুষ আগে থেকেই জানত। কিন্তু বিদেশি জাতগুলোর দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের বুনো আমড়া। দেশে আজকাল বারোমাসি জাতের আমড়াও দেখা যায়। তবে বুনো আমড়া (Spondias pinnata) বছরে একবার গ্রীষ্ম-বর্ষাতেই পাওয়া যায়। দেশের চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং দিনাজপুরের বনাঞ্চলে বুনো আমড়ার দেখা মেলে।

মাঝারি আকৃতির এই গাছ সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। বছরে একবার পাতা ঝরায়। ডালের আগায় গুচ্ছবদ্ধ পাতাগুলো দেখতে অনেকটা জিকাগাছের পাতার মতো। এই আমড়ার পাতা তুলনামূলক বড় এবং ঘনবদ্ধভাবে ঝোপাল হয়ে থাকে। মঞ্জরিদণ্ড খানিকটা বড়, ডালের আগায়, শাখায়িত ও বিস্তৃত। ফুল ফোটার মৌসুম বসন্তকাল। পাপড়ির রং সাদা ও সবুজ মেশানো এবং লম্বাটে ধরনের। থোকা থোকা ফলগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই পরিপক্ব হয়ে ওঠে।

ফল রসাল এবং টক-মিষ্টি স্বাদের, দেখতে সবুজাভ-হলদে রঙের। ফলের ভেতরের আঁটি বড় ও কোমল কাঁটায় ভরা। এ কারণে খাদ্যাংশের পরিমাণ কম। স্থানীয় লোকজন এই ফলের টক রান্না করে খেতে পছন্দ করে।

হরিণের পছন্দের তালিকায়ও আছে এই ফল। পরিপক্ব ফল থেকে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের আচার ও চাটনি। ফল, পাতা, বাকল—সবকিছুই নানান রোগে কাজে লাগে। বংশবৃদ্ধি বীজ থেকে। বুনো আমড়ার আদি আবাস ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া।

মোকারম হোসেন, প্রকৃতিপরিবেশবিষয়ক লেখক

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন