রাজধানীর আকাশ হঠাৎ কেন অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকেছবি: ফাতেমা তুজ জোহরা

ছুটির দিন আজ শুক্রবারে সকালের আকাশ বেশ ঝকঝকে ছিল। কিন্তু বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর আকাশ। এ পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতি কেন? এ কি দূষণ, না সাগরে সৃষ্টি হওয়া কোনো লঘুচাপের প্রভাব? এ সময়টায় এমন অবস্থা কি এবারই প্রথম হচ্ছে?

আবহাওয়াবিদ ও দূষণ বিশেষজ্ঞদের কথা হলো, ফেব্রুয়ারির শেষ এবং মার্চের শুরুতে আকাশ হঠাৎ এভাবে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়। মনে হয় যেন চারদিক অন্ধকার করে এসেছে, এই বুঝি মেঘ হয়ে বৃষ্টি এলে। শেষতক বৃষ্টি হয় না। আকাশও কিছু সময় পর পরিষ্কার হয়ে যায়। এই যে পরিস্থিতি, এটা কিন্তু বরাবরই হয়। আকাশের এই পরিস্থিতিকে ‘ধোঁয়াশা’ বলেন আবহাওয়াবিদেরা। নগরীর দূষণ, হাওয়ার বদল, বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি আর সাগরের লঘুচাপের সীমিত প্রভাব—এসব কারণেই পরিস্থিতি এমন হয়ে যায়।

রাজধানী ঢাকা এখন বিশ্বের দূষিত নগরীগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে আছে। এটাও দীর্ঘ সময় ধরেই আছে। আজ বেলা ১১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিশ্বের ১২৩টি নগরীর মধ্যে ঢাকা ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ঢাকার বায়ুর মান ২৮৪।

বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।

বায়ুদূষণের মাত্রা ২০০-এর বেশি হলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। আর ৩০০ হয়ে গেলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য করা হয়।

নগরীর এই দূষণের উৎসগুলোর মধ্যে আছে ইটভাটা ও কলকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ইত্যাদি। এসব উৎসের পাশাপাশি আন্তমহাদেশীয় দূষিত বায়ুপ্রবাহেরও ভূমিকা আছে। এই বায়ু ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর ও করাচি এবং ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই দূষিত বায়ুর একটি স্তর সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এটি আপাতত স্থায়ী হয়ে গেছে।

গত জানুয়ারি মাস এবং চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় প্রতিদিন বায়ুদূষণে বিশ্বের নগরীগুলোর মধ্যে একেবারে সামনের সারিতে থেকেছে ঢাকা।

এখন আবার প্রকৃতিতে শীতের বিদায় হয়ে বসন্ত এসেছে। তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। শীতকালে উত্তর-পশ্চিম বায়ু বয়ে যায়। আর গরমে আসে দক্ষিণের বায়ু।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলছেন, প্রকৃতিতে বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন হচ্ছে। একটির সঙ্গে আরেক প্রবাহের সংঘাত হচ্ছে। বায়ু এখন এলোমেলো আচরণ করে। এর সঙ্গে রাতের কমতে থাকা তাপমাত্রা এবং দূষণ মিলে এ সময়ের শেষ বিকেল এবং সকালে সূর্য ওঠার পর আকাশ মেঘলা মনে হয়। এটা আসলে ‘ধোঁয়াশা’। শেষ ফেব্রুয়ারি এবং মার্চের শুরু পর্যন্ত এমনটা থাকেই। বৃষ্টি না হলে এ পরিস্থিতি চলতে থাকবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে। এটিও এই ধোঁয়াশা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

এরই মধ্যে সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবার বরিশাল, খুলনা বা চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো কোনো স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলছিলেন, মূলত উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এতে এই ধোঁয়াশা কাটতে পারে।