ঝড়বৃষ্টির এ সময়ে ঈদের দিনটা কেমন যাবে, জানালেন আবহাওয়াবিদেরা

আবহাওয়া অধিদপ্তরছবি: প্রথম আলো

এখন কালবৈশাখীর সময়। এরই মধ্যে রাজধানীতে কয়েক দফা ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়ে গেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে ছিল ঝোড়ো হাওয়া। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস, আজ বৃহস্পতিবারও ঢাকাসহ ছয় বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। এই ঝড়বৃষ্টি থেমে থেমে আগামী রোববার পর্যন্ত থাকতে পারে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে এই বৃষ্টি হতে পারে বিচ্ছিন্নভাবে, একটানা নয়।

এখন মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে, আগামী শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে। ওই দিনও ঢাকা বিভাগসহ দেশের পাঁচ বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির কিছুটা সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদেরা।

রাজধানীতে গতকাল ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ১২টার পরও বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। যদিও সন্ধ্যায় যেমন ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হয়েছিল, পরে তা কমে আসে।

প্রাক্‌–মৌসুমি বৃষ্টিপাত বা কালবৈশাখীর এ সময়ের বৈশিষ্ট্য হলো, হঠাৎ করে বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়। আকাশ কালো হয়ে যায়। এরপর ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি। কিন্তু এ ঝোড়ো হাওয়া যেমন হঠাৎ করে আসে আবার চলে যায় তাড়াতাড়ি। কিন্তু রাজধানীতে গতকাল তা হয়নি। এর কারণ প্রসঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, মার্চ মূলত কালবৈশাখীর মাস। এ সময় স্থানীয়ভাবে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়। মেঘের একটি সেল থেকেই ঝড়বৃষ্টির সূচনা হয়। গতকাল রাজধানীতে একাধিক বজ্রমেঘ কাছাকাছি সময়ে চলে এসেছিল। এ জন্যই দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হয়েছে। বজ্রমেঘও রাজধানী এবং আশপাশে ছড়িয়ে পড়েনি।

আগামী শুক্রবার রাতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা আছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর। তিনি বলেন, এর রেশ শনিবার পর্যন্ত থাকতে পারে। কিন্তু এ সময়ের ঝড়বৃষ্টির যে বৈশিষ্ট্য, একটানা কোথাও হবে না। স্থানীয়ভাবে বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়ে কালবৈশাখী ও বৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার ঈদের দিন ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কিছু জায়গায় এবং চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দু–এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির পরিমাণ অপেক্ষাকৃত বেশি হতে পারে ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। এর পাশাপাশি মধ্যাঞ্চলের ঢাকা এবং উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সিলেটের কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। তবে এ সময়ের বৃষ্টি যেমনটা হয় সেই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। আবার বড় এলাকাজুড়ে বৃষ্টি না–ও হতে পারে।

কালবৈশাখীর এ সময় স্থানীয়ভাবে অনেক সময় মেঘ সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টি ঝরায়। এই স্থানিক এবং অতিদ্রুত মেঘ সম্পর্কে আগে থেকে অনেক সময় ধারণা করা যায় না।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঈদের দিন বিক্ষিপ্তভাবে উপকূলীয় অঞ্চল অর্থাৎ খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগ অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টি হতে পারে। অন্য বিভাগগুলোর কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া থাকতে পারে। এ সময়ের বৈশিষ্ট্য মেনে, স্থানীয় মেঘ সৃষ্টি হয়ে আধা ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে এ ঝড়বৃষ্টি থাকতে পারে।

কালবৈশাখী ও বৃষ্টি সাধারণত হয় বেশ সকাল কিংবা বিকেলের দিকে। গত কয়েক দিনে রাজধানীতে বিকেলের দিকেই ঝড় হয়েছে।

ঈদের দিন দুপুরের পর বৃষ্টি বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার কিছুটা আশঙ্কা আছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের আরেক আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা। তিনি বলেন, এ সময় আকাশ তো একেবারে পরিষ্কার থাকে না। ঈদের দিন রাজধানীতে সকালে কিছুটা মেঘ থাকতে পারে। আবার বিকেলেও মেঘ থাকতে পারে। সেখান থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।