তাপমাত্রা বেড়ে গেল, এ মাসে কি আর শৈত্যপ্রবাহ হবে
আজ শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে সেখানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। দেশের এই এক স্থানেই আজ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এরপরও আবহাওয়া অফিস বলছে না যে এখানে শৈত্যপ্রবাহ আছে। এর কারণ হলো, এভাবে বিচ্ছিন্ন একটি এলাকায় তাপমাত্রা এমনটা থাকলে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা যায় না। গতকাল শুক্রবার দেশের তিন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী দুই দিন তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তারপর আবার তা বাড়তে পারে। এভাবে যদি তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, তাহলে এ মাসে আর শৈত্যপ্রবাহ আদৌ হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
আজ সার্বিকভাবে দেশের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক। তিনি আজ প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল তিন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। আজ পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হলেও দেশের একটি পকেটে এভাবে তাপমাত্রা থাকলে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা যায় না। আগামী দুই দিন তাপমাত্রা একই রকম থাকতে পারে। তার পর থেকে আবার তা বাড়তে পারে।
চলতি মাসের অর্ধেকটা চলে গেছে। এখন বাংলা মাস মাঘ শুরু হয়েছে। এই মাসের শীতে ‘বাঘ পালিয়ে যায়’ বলে কথা প্রচলিত আছে। তারপরও এখন শীত কমছে। তাহলে এ মাসে আর শৈত্যপ্রবাহ কি হবে না?
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলছিলেন, অন্তত ২৬ তারিখ পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এরপর নতুনভাবে আবার শৈত্যপ্রবাহ হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।
জানুয়ারি মাসে আর শৈত্যপ্রবাহ হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তার মানে কিন্তু এই নয় যে এ মাস চলে গেলে শীত একেবারে কমে যাবে। কারণ, বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি মাসেও তীব্র শীত পড়ার ঘটনা আছে। শুধু তা–ই নয়, দেশের রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল এ মাসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ১৯৬৮ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সেই প্রসঙ্গ তুলে আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে শৈত্যপ্রবাহ হবে না, তা বলা যায় না।