অগত্যা গাড়ি না ঘুরিয়ে ‘ব্যাক’ করে মূল সড়কে ফেরা ছাড়া উপায় নেই। শুরু হলো সেই কসরত। এমন একটি দুঃসহ পরিস্থিতিতেই এই পুষ্পদেবী সাক্ষাৎ দিলেন। ফুলটির গড়ন ও রঙের ভিন্নতা আকর্ষণীয় বলে চোখ আটকে গেল। হাত দেড়েক উঁচু মাত্র ২-৩টি গাছ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। নতুন একটি ফুল দেখার আনন্দে যাবতীয় যন্ত্রণা মুহূর্তেই মধুময় হয়ে উঠল। ছবি তোলার জন্য নেমে গেলাম। ঝটপট তুলে ফেললাম কয়েকটি ছবি।

উদ্ভিদচর্চার ২৪ বছরে দেশের কোথাও এই ফুল দেখিনি। কোথাও কোথাও ওর নিকট আত্মীয়দের দেখা পেয়েছি। যার মধ্যে নীলগাছ অন্যতম। এমনও হতে পারে, দেখেছি অমৌসুমে, গাছে ফুল ছিল না। এ কারণে চোখে পড়েনি গাছটি। উদ্ভিদবিষয়ক বইয়ে গাছটির স্থানীয় নাম ছোট সিরফাংকা। ইংরেজি নাম Hairy Indigo, Penni Venpali।

ছোট সিরফাংকা (Indigofera hirsuta) ছড়ানো ধরনের বীরুৎ বা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা কোনাকৃতি, বাদামি অথবা সাদা রোমে আবৃত। পাতা যৌগিক, আড়াই থেকে ১০ সেমি লম্বা এবং তাতে ৫ থেকে ৯টি বিপরীত পাতা থাকে। পুষ্পবিন্যাস লোমযুক্ত, বহু ফুলযুক্ত স্পাইকের মতো খাড়া, ২০ থেকে ৩০ সেমি লম্বা। ফুল মটর ফুল আকৃতির, লোমশ, লাল থেকে গোলাপি রঙের, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৪ থেকে ৬ মিমি। ডালপালা খাড়া, নলাকার, ডোরাকাটা এবং গাছ পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাষ্ঠল হয়ে ওঠে। মঞ্জরিদণ্ড লম্বাটে এবং কাক্ষিক। ফুল ও ফলের মৌসুম আগস্ট থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত।

এ গাছের আবাসস্থল পতিত জমি, তৃণভূমি, বিনষ্ট বন ও আবাদি জমি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় স্বাভাবিকভাবেই জন্মায়। বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, নিউগিনি, ফিলিপাইন, উষ্ণমণ্ডলীয় আফ্রিকা, মাদাগাস্কার, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কায় এ গাছ সহজলভ্য।

আমাদের দেশে দিনাজপুর, ঢাকা ও সিলেট জেলায় পাওয়া যায়। ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলে এ গাছ খেতের সবুজ সার এবং ছায়া–ফসল হিসেবে কাজে লাগে।

মোকারম হোসেন, প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক