কিন্তু অতি লাজুক পাখিগুলো আমার গোপন আগমনও কীভাবে যেন টের পেয়ে গেল! গাছ থেকে লাফাতে লাফাতে মেঠোপথের উল্টো পাশের চা-বাগানে চলে গেল সেগুলো।

কিছু পাখি বাগানের ছায়াদানকারী গাছে ও বাকিগুলো চা-গাছের ভেতরে লাফালাফি করতে লাগল। কুয়াশার কারণে দূর থেকে ছবি তোলা যাচ্ছিল না। তাই যতটা সম্ভব সাবধানে ওগুলোর কাছাকাছি চলে এলাম। চা-গাছের ওপর ফোকাস করে ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারে চোখ রেখে দাঁড়ালাম। দু-একটি করে পাখি গাছের ওপরে ওঠা মাত্রই ক্লিক করতে লাগলাম।

এর আগে হবিগঞ্জের রেমা বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে ও শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলের ঝোপে এসব পাখির ছবি তুলতে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছিলাম এ কারণে। তবে এবার চা-গাছের ভেতরে ঢোকায় সুবিধা হলো। ভেতর থেকে পাখি ওপরে উঠলেই দ্রুত ক্লিক করছি। এভাবে প্রায় মিনিট দশেক ছবি তুলে আবারও বিরল পাখিগুলোর খোঁজে মূল ঝোপের দিকে এগিয়ে গেলাম।

মিষ্টি স্বরে গান গাওয়া চঞ্চল পাখিগুলোর আকার মাঝারি। দেহের দৈর্ঘ্য ২২-২৩ সেন্টিমিটার ও ওজন গড়ে ৬৫ গ্রাম। পালকের রং বেশ সুন্দর। লেজসহ পিঠ জলপাই-বাদামি। মাথা কালচে-ধূসর। কপাল, কান, মুখমণ্ডল, থুতনি ও গলার নিচ থেকে বুক পর্যন্ত কালো। ঘাড়ের দুই পাশে লালচে বা মরচে-কমলা পট্টি রয়েছে। তলপেট ও লেজের তলা ফ্যাকাশে কমলা; পেটের বাকি অংশ ধূসর-বাদামি। খাটো লেজটি অপেক্ষাকৃত কালচে। চোখ লাল। চঞ্চু, পা, আঙুল ও নখ কালচে-ধূসর। স্ত্রী-পুরুষের পালকের রঙে ভিন্নতা নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখিগুলো অপেক্ষাকৃত অনুজ্জ্বল ও মাথার পালক বাদামি।

মার্চ থেকে আগস্ট প্রজননকাল। এ সময় মাটি থেকে প্রায় ছয় মিটার উঁচু ঝোপঝাড়, গাছগাছালি বা বাঁশঝাড়ে শিকড়-বাকল, পাতা ও শেওলা ইত্যাদি দিয়ে বাটির মতো করে বাসা বানায়। ডিম পাড়ে তিন-চারটি, রং ফিকে সাদা।

অতি লাজুক এই পাখির নাম লালঘাড় পেঙ্গা বা লালঘাড়ওয়ালা পেঙ্গা। এ পাখি এদেশে সচরাচর দৃশ্যমান আবাসিক পাখি। পশ্চিমবঙ্গে পাবদুয়া বা হাট-গুড়গুড়ি নামে পরিচিত। ইংরেজি নাম রুফাস-নেকড লাফিংথ্রাস। গোত্র টিমালিইডি, বৈজ্ঞানিক নাম Garrulax ruficollis। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ পাখির দেখা মেলে।

আ ন ম আমিনুর রহমান, পাখি ও বন্য প্রাণী চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন