বিষ দিয়ে মাছ শিকার করলে নিজের ভাইকেও ছাড় দেব না: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
বিষ দিয়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমি বলে দিয়েছি, আমার ভাই হলেও আমি ছাড় দিতে রাজি নই, যদি সে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে।’
আজ সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বিপন্ন প্রজাতির হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ রক্ষায় শিক্ষামূলক প্রদর্শনী’তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি বাংলাদেশ (ডব্লিউসিএসবি) এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এর আগে বেলা ১১টার দিকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট কারণে সমুদ্রের প্রজাতিগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও তেলের জাহাজডুবির মতো ঘটনা ঘটছে। মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী এসবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে আমাদের জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে। বিশেষ করে মনুষ্যসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের কারণে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কারণে কিছু হচ্ছে, সেটার সংখ্যা খুবই কম।’
বিষ দিয়ে মাছ শিকারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের চর্চা আগামী প্রজন্মের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে এবং পুষ্টির জোগানকে বাধাগ্রস্ত করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষ প্রয়োগের ফলে খাল-নদীর সবকিছু বিলীন হয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের অনেক প্রজাতি পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের সন্তানেরা পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে পড়বে। তাই সবকিছু পরিকল্পিতভাবে করতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী এ সময় হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। তিনি বলেন, সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় হাঙর ও শাপলাপাতা মাছের প্রজাতিগুলোকে বাঁচাতে হবে। অতিরিক্ত আহরণের কারণে সমুদ্রের খাদ্যশৃঙ্খল হুমকির মুখে পড়েছে।
অনুষ্ঠানে ডব্লিউসিএসবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৩ নম্বর গ্যালারিতে এ প্রদর্শনী চলবে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে হাঙর, তিমি, শাপলাপাতা মাছসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর গুরুত্ব, আবাসস্থলের হুমকি ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো সহজবোধ্য করে তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টার, স্টিকার, সামুদ্রিক প্রাণীর নমুনা ও প্রতিকৃতির মাধ্যমে সচেতনতামূলক এ বার্তাগুলো দেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হাঙর ও শাপলাপাতা প্রজাতির সংখ্যা শতাধিক। এর মধ্যে প্রতি তিনটি প্রজাতির দুটিই বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে।