প্রতিটি আলাদা পুরুষ পাখির জন্য একেকটি ভিন্ন নম্বর দেওয়া হয় সাইট অনুযায়ী। জার্মানির একটি বিখ্যাত পাখি গবেষণা ও সংরক্ষণ সংস্থা ল্যান্ডেস বুন্ড ফুর ভোগেলসুজ ইন বায়ার্নের (বাভারিয়ান স্টেট অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব বার্ডস) পাখি গবেষক হিসেবে ওরটোলান বান্টিংয়ের সংখ্যা, খাদ্যাভ্যাস, আচরণ ও প্রজনন-সফলতা নিয়ে গবেষণাকাজটিতে অংশগ্রহণ করেছি। এ গবেষণার পাশাপাশি জার্মানির দারুণ সব গ্রাম, শহর, নদী ও ছোট পাহাড়ের রূপ-লাবণ্য উপভোগ করা ছাড়াও ফার্মল্যান্ড-নির্ভর অনেক পাখির আচার-আচরণও পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছি।

আফ্রিকা থেকে পুরুষ পাখি আসার প্রায় এক সপ্তাহ পর মেয়ে পাখিরা আসা শুরু করে। মেয়ে পাখি খুবই লাজুক, গান গায় না। কেবল ছানা ফুটলে খাবার নিয়ে বাসায় আসা-যাওয়ার সময়ে তাদের ভালোভাবে দেখা যায়। তা ছাড়া বাসার আশপাশে মানুষ বা অন্য কোনো শিকারি এলে সে কেবল সতর্কতার ডাক দেয় এবং ছানাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য একধরনের ডাক দেয়।

পুরুষ পাখি সকালে বেশির ভাগ সময় সুমধুর সুরে গান গাইবে, মেয়ে পাখির সঙ্গে প্রেম করার জন্য। আর ভাব বিনিময়ের জন্য বিশেষ একধরনের ডাক দেয়। মেয়ে পাখি তার পছন্দ অনুযায়ী সঙ্গী নির্বাচন করে এবং বাসা তৈরির জন্য তারা দুজনে মিলে জায়গা নির্বাচন করে।

পুরুষ বিচরণ এলাকা নির্ধারণ করে। তবে কয়েক জোড়া পাখির ব্রিডিং সময়ের বিচরণ এলাকা ও বাসা ১০০ থেকে ২৫০ মিটারের মধ্যেও হতে পারে। এরা কেবল ফসলে আচ্ছাদিত মাঠে খড়কুটো দিয়ে বাটির মতো বাসা বানায়।

ওরটোলান জার্মান লাল তালিকায় বিপন্ন প্রজাতির পাখি হিসেবে বিবেচিত। জার্মানির বাভারিয়াতে ওরটোলান শুধু আঞ্চলিকভাবে দেখা যায় ওয়ারজবার্গ ও শোয়েনফুর্টের মধ্যে প্রধান ফ্রাঙ্কোনিয়ান মালভূমিতে। পুরো ইউরোপে ওরটোলানের সংখ্যা কমছে। ওরটোলানের শুধু কৃষক, প্রকৃতি সংরক্ষণ ও কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার মাধ্যমে সফলভাবে রক্ষা করা যেতে পারে।

সৌরভ মাহমুদ, ্রকৃতিবিষয়ক লেখকপাখি গবেষক

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন