নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে: মির্জা ফখরুল

বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরছবি: এলজিআরডির জনসংযোগ বিভাগের সৌজন্যে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভূগর্ভস্থ পানি নয়, এখনই ভূ-উপরিস্থ পানির দিকে যেতে হবে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব পানি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) অডিটোরিয়ামে এ সেমিনার হয়। বিশ্ব পানি দিবস ছিল ২২ মার্চ।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে আরও জটিল হয়ে উঠছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, রাজধানী ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শহরের পানিব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিনি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো, নদী ও জলাধার সংরক্ষণ এবং আধুনিক পানিশোধন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ পানি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে। শহরের নিম্নবিত্ত ও বস্তিবাসীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন। এটি মানবিক ও উন্নয়নগত চ্যালেঞ্জ। তিনি এই বৈষম্য দূরীকরণে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল, ইউনিসেফের প্রতিনিধি স্ট্যানলে ওয়াভিয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামসেদ মোহামেদ।

সভাপতির বক্তব্যে সচিব বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সেমিনারে পানি ও জেন্ডার বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন।

আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার নারগিস আক্তার, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের নির্বাহী পরিচালক এস এম এ রশিদ প্রমুখ।