খালে ফেলা ময়লার দুর্গন্ধে কষ্টে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

খালে ময়লার স্তূপ। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সৃজনী বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছে । প্রথম আলো
খালে ময়লার স্তূপ। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সৃজনী বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছে । প্রথম আলো

খালে পানিপ্রবাহ নেই। আছে আবর্জনার স্তূপ। সেখান থেকে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। খালের পাশে বিদ্যালয়। সেখানে নাকে রুমাল চেপে, ভ্রূ কুঁচকে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। শিক্ষকেরাও পড়েছেন বেকায়দায়।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সৃজনী বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীরা এভাবে দুর্গন্ধের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, দুমকি উপজেলার প্রাণকেন্দ্র পীরতলা বাজারসংলগ্ন বিদ্যালয়টির পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে দুমকি খাল। খালের বিশাল একটি অংশ দখল করে একাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সেই অবৈধ স্থাপনাগুলোর মধ্যে দুটি খাবার হোটেল থেকে প্রতিদিন বর্জ্য খালে ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া আশপাশের অনেকে খালে আবর্জনা ফেলে। সেই বর্জ্যের গন্ধ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

খালের পাশে অবস্থিত এ বিদ্যালয়ে জানালা দিয়ে শ্রেণিকক্ষ ও অফিসে দুর্গন্ধ আসছে। এমনকি জানালা বন্ধ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ক্লাসে থাকলে শিক্ষার্থীরা নাকে কাপড় বা রুমাল চেপে রাখে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিদ্যালয়টি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন। এ বিদ্যালয়ে শিশু থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। শিক্ষার্থী আছে ৯৫২ জন।

নবম শ্রেণির ছাত্রীরা বলে, স্যার যতক্ষণ পড়ান ততক্ষণ অতি কষ্টে নাকে ওড়না চেপে ক্লাস করেন। অনেকে পাঁচ–সাত মিনিট পরপর বাইরে যায়। এভাবে লেখাপড়া করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে ক্লাস চলাকালে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে। অথচ স্থানীয় কতিপয় লোকজন খালটি দখল করে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে। দুর্গন্ধ ও বায়ুদূষণের কারণে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

সৃজনী বিদ্যানিকেতনের পরিচালক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের চেয়ারম্যান আ ক ম মোস্তফা জামান বলেন, বিদ্যালয়ের পাশের দোকানিদের ময়লা–আবর্জনা খালে না ফেলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তাঁরা শোনেননি। খালে ময়লা ফেলায় তাঁরা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। শিশুরা সকাল ৭টা থেকে শুরু করে সারাটা দিন নাকে রুমাল এবং ওড়না চেপে অতি কষ্টে ক্লাস করছে।

স্থানীয়রা বলেন, পীরতলা বাজার দিয়ে শুধু শিক্ষার্থীই নন, তাঁরাও নাকে রুমাল চেপে প্রতিদিন চলাচল করছেন। সুষ্ঠু তদারকি ও নজরদারির অভাবে দুমকি খালে আবর্জনা আটকে গেছে। অনেকে আবর্জনা খালেই ফেলছে। তা ছাড়া, খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে স্থাপনা তৈরি হওয়ায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। খাল পরিষ্কার আর নিয়মিত ময়লা অপসারণ করা হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট দূর হবে।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, তিনি এখানে নতুন যোগদান করেছেন। তবে তিনি খোঁজখবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।