নীলগলা বসন্ত

কাঁঠালের মুচি খেতে গাছে বসেছে নীলগলা বসন্ত। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে তোলা ছবি l লেখক
কাঁঠালের মুচি খেতে গাছে বসেছে নীলগলা বসন্ত। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে তোলা ছবি l লেখক

কিছুদিন আগে আমার পরিচিত বরিশালের এক কিশোর একটি পাখির ছবি তুলে পাঠিয়েছিল পাখিটির নাম জানার জন্য। পাকা পেয়ারা খেতে গিয়ে পাখিটি গাছের জালে আটকে যায়। কিন্তু ভারি সুন্দর এবং সবুজ-নীল ও লাল মেশানো রঙের পাখিটির নাম কেউ জানে না। তাদের ধারণা, এটা খুব বিরল প্রজাতির পাখি। পরে ছবি তুলে তারা পাখিটিকে মুক্ত করে দেয়। পাখিটির নাম নীলগলা বসন্ত। দেশের কোথাও কোথাও আবার বসন্ত বাউরি নামে পরিচিত। দেহের সবুজ পালকের রং গাছের পাতার সঙ্গে মিশে যায় বলে পাখিটি কম দৃষ্টিগোচর হয়। এ কারণে এ পাখিকে অনেকেই বিরল প্রজাতি মনে করেন। বাংলাদেশে দেখা যায় পাঁচ প্রজাতির বসন্ত। এরা হলো নীলগলা বসন্ত, নীলকান বসন্ত, সেকরা বসন্ত, দাগি বসন্ত এবং বড় বসন্ত। নীলগলা বসন্ত বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি।
দেশের অনেক জনপদে পাখি দেখতে গিয়েছি, কিন্তু নীলগলা বসন্ত পাখির সবচেয়ে বেশি দেখা পেয়েছি ও ডাক শুনেছি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ওখানে যে গ্রামের যে পথ দিয়েই হেঁটেছি, সব জায়গাতেই এ পাখির ডাকাডাকি। সবুজ রঙের এ বৃক্ষচারী পাখি সাধারণত গাছের ফল খেতে বেশি ভালোবাসে। বিশেষ করে পাকা পেঁপে খেতে এরা ওস্তাদ। তা ছাড়া নানান কচি ফলও খায়। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখি অনেক বেশি ডাকাডাকি করে।
নীলগলা বসন্ত (Blue-throated Barbet) পুরোপুরি সবুজ রঙের বৃক্ষচারী পাখি। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির সামান্য কিছু পালক ছাড়া দেহের পুরোটাই ঘাসসবুজ বর্ণের। মুখ, গলা ও বুকের উপরিভাগ নীল পালক দ্বারা আবৃত। বুকের পাশে কালো পট্টি রয়েছে। কপাল লাল, চাঁদি কালো ও গাঢ় লাল থাকে। ঠোঁট ফিকে ধূসর। কমলা-হলুদ সরু চোখের কিনারাসহ চোখ লালচে-বাদামি। পা ও পায়ের পাতা সবুজাভাব-স্লেট। ছেলে ও মেয়ে পাখি দেখতে একই রকম। নীলগলা বসন্ত সব বন, বাগানে বিচরণ করে। সাধারণত একা বা জোড়ায় থাকে। মাঝেমধ্যে অন্যান্য ফলাহারী পাখির মিশ্র দলে যোগ দেয়। সাধারণত এরা জোর গলায় দীর্ঘক্ষণ ধরে ডাকে কুটুররুক... শব্দে। প্রজনন সময়ে প্রায় বিরতিহীনভাবে সারা দিন ডাকে। পাশের ছেলে পাখির সঙ্গে ডাকের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। মার্চ-জুলাই মাস প্রজনন সময়। তখন ভূমি থেকে ২ থেকে ৮ মিটার ওপরে গাছে গর্ত খুঁড়ে বাসা করে। বাসায় ৩-৪টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা।