মাঘের শীতে কাঁপছে দেশ
এ বছর প্রায় পুরো মৌসুম স্বাভাবিক শীতের জন্য অপেক্ষা করেছে দেশ। শেষ পর্যন্ত মাঘের প্রায় মধ্যভাগে এসে দেখা মিলেছে সেই শীতের। দুই দিন ধরে শীতে কাঁপছে সারা দেশ। শহর-নগরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে সেই কাঁপুনি প্রাকৃতিক কারণেই বেশি। গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষের জন্য তা বয়ে এনেছে বাড়তি কষ্ট ও দুর্ভোগ।
এর মধ্যে গত পরশু (শুক্রবার) থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস হচ্ছে, আরও দু-তিন দিন সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমবে। ফলে নতুন আরও কিছু এলাকা শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়তে পারে।
গতকাল সারা দেশের মধ্যে রাজশাহী ও সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ১৪ দশমিক ৩, খুলনায় ১১ দশমিক ৫ ও বরিশালে ছিল ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত পরশু থেকে ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা অব্যাহত রয়েছে রাজশাহী, ঈশ্বরদী, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও টাঙ্গাইলে। এই এলাকাগুলোতেই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আজও থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরে কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ মোমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দু-তিন দিন পর তাপমাত্রা কমার প্রবণতা থামবে। তারপর আবার তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। শীতের প্রকোপ তখন কমে আসবে। আর আগামী কয়েক দিন নদী অববাহিকায় সকাল-সন্ধ্যা ও রাতে কুয়াশা থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ও আবহাওয়াবিদের ব্যাখ্যায় এ কথা স্পষ্ট যে এই শীত বেশি দিন অব্যাহত থাকবে না। দু-তিন দিন পরেই এর প্রকোপ কমবে। অবশ্য সারা পৃথিবীতেই এবার শীতের প্রকোপ কম। ২০১৫ সাল উষ্ণতম বছর হবে বলে বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিজ্ঞান সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা সুনির্দিষ্টভাবেই বলেছেন, ১৮৮০ সালের পর ২০১৫ সালই হচ্ছে উষ্ণতম বছর। তবে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা ১৮৫০ সালের পর এবং জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ১৮৯১ সালের পর ২০১৫ সালকে উষ্ণতম বছর বলে অভিহিত করেছেন।
এ বছরের শীতকালকে ২০১৫ সালের উষ্ণতায় প্রভাবিত বলে মনে করা হয়। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশে আবারও শীত কিছুটা বাড়তে পারে।
শৈত্যপ্রবাহ কী, কোথায়: শৈত্যপ্রবাহ বলতে অনেকে মনে করেন শীতের সঙ্গে প্রবাহিত বাতাস। গতকাল সারা দেশেই উত্তুরে বাতাস বয়েছে। বিকেলে কারওয়ান বাজারের একজন ভ্যানচালক আমিরুল ইসলাম সেই বাতাস দেখে বলেন, ‘ঢাকায়ও শৈত্যপ্রবাহ আইসা গেছে। গ্রামের অবস্থা তো খুব খারাপ শুনতাছি।’
তবে আবহাওয়াবিদেরা বলেন, গ্রীষ্মকালে যেমন দক্ষিণা বাতাস স্বাভাবিক, তেমনি শীতে উত্তরের বাতাস। এই বাতাস না বইলেও গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহ এবং শীতে শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। এগুলো আসলে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নির্দেশ করে। যেমন শীতে তাপমাত্রা ১০ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৮ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা থাকলে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। আর ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এই তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাস থাকতে পারে, না-ও থাকতে পারে।
তাপমাত্রা ও শীতের অনুভূতি: আবহাওয়াবিদেরা বলেন, তাপমাত্রা কমলেই সব ক্ষেত্রে শীতের অনুভূতি সমানভাবে তীব্র না-ও হতে পারে। যেমন কোনো একটি দিনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে ব্যবধান যত বেশি হবে, শীতের অনুভূতি তত কম হবে। দিনের বেলায় সূর্যালোক থাকা না-থাকাও শীতের অনুভূতিতে পার্থক্য এনে দেয়। একই তাপমাত্রায় শহর ও গ্রামে শীতের অনুভূতিতে পার্থক্য হয়। শহরে কম ও গ্রামে বেশি শীত অনুভূত হয়।