১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নাকাল মিরপুরবাসী

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ছিল। সে অনুসারে আগাম প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন অনেক অফিসগামী যাত্রী। কিন্তু সকাল সকাল শুরু হওয়া টানা দুই ঘণ্টার বৃষ্টি ছাতা কিংবা রেইনকোট দিয়ে ঠেকাতে পারলেও এ কারণে তৈরি হওয়া জলজট ও যানজটের ভোগান্তি এড়াতে পারেনি মিরপুরবাসী।

এমনিতে মেট্রোরেলের কাজের সঙ্গে সরু ও ভাঙা সড়ক মিরপুরবাসীর কাছে প্রতিদিনের দুর্ভোগের কারণ। এর ওপর গতকালের ‘অকাল’ বৃষ্টিপাত তাদের সেই দুর্ভোগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বৃষ্টির কারণে কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মিরপুর–১০ নম্বর গোলচত্বরের আগ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ ও আশপাশের গলিগুলো পানিতে ডুবে যায়। সাধারণ সময়েও এই জায়গাটিতে যানবাহনের গতি থাকে ধীর। এর ওপর সড়কে জমে থাকা পানির কারণে যানবাহনের চালকদের সাবধানী মনোভাবে যানজটের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ সময় অধৈর্য হয়ে অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা যায়। আবার জায়গায় জায়গায় যানবাহনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছিলেন অনেকে। এ ছাড়া কালশী ও চিড়িয়াখানা সড়কও জলজটের কবলে পড়ে।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে আসা শুষ্ক বাতাস আর জলীয় বাষ্প নিয়ে আসা পুবালি বাতাস একসঙ্গে মেলার কারণে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকেই বজ্রপাত, বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পরিমাণ বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ১৭ মিলিমিটার। এই পথে চলাচলকারী যাত্রীরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই যদি মিরপুরের এ অবস্থা হয়, তাহলে ভরা বর্ষা মৌসুমের ভোগান্তির কথা ভেবে তাঁরা এখনই আতঙ্ক বোধ করছেন।

গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে কথা হয় মিরপুর–১১ নম্বর সেকশনের বাসিন্দা নুরুল হকের সঙ্গে। মাথায় ছাতা ধরা থাকলেও আপাদমস্তক বৃষ্টির পানিতে ভেজা নুরুল হক বলেন, ‘মতিঝিলে যাওয়ার জন্য সকাল সাতটায় পল্লবী থেকে একটি বাসে উঠি। বাসটি ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত পৌঁছাতেই এক ঘণ্টা পার হয়ে যায়। অতিরিক্ত যানজট দেখে এরপর বাস থেকে নেমে হেঁটে এই পর্যন্ত এসেছি। এখন আরেকটি বাসে ওঠার চেষ্টা করছি।’
সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ জুবেরী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘পৌনে আটটায় বাসা থেকে বের হয়ে সোয়া দশটায় কেবল তালতলা! বাংলামোটর কত দূর?’ তাঁর এই স্ট্যাটাসের নিচে ইকবাল মাহমুদ নামের একজন তাঁকে বাস ছেড়ে হেঁটে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

মিরপুর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসগুলো ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, তালতলা, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্র পার হয়ে কোনোভাবে খামারবাড়ি মোড় পর্যন্ত এলেও আবার আটকে যায়। কারণ, এখান থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত পুরো সড়কই ছিল পানির তলায়। এর ওপর এ অংশেও মেট্রোরেলের কাজ শুরু হওয়ায় সড়কের প্রশস্ততা কমে আসায় যানজটের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি।
শাহবাগগামী একজন যাত্রী হিসাব দিলেন, বাসে করে ফার্মগেট মোড় পার হতেই তাঁর ৪৫ মিনিটের বেশি লেগেছে। পরে বিকেল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিতে গোটা শহরেই যানজট ছড়িয়ে পড়ে।