জাহালম পেলেন ৫ লাখ টাকার চেক
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগ করা পাটকলের শ্রমিক জাহালমের কাছে পাঁচ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান এই চেক জাহালমের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
জাহালমের বড় ভাই শাহানূর প্রথম আলোকে বলেন, চেক হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি আইনজীবীর কাছ থেকে খবর পান। তিনি জাহালমকে সঙ্গে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে যান। পরে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে আইনজীবী জাহালমের কাছে পাঁচ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন।
চেক পাওয়ার পর জাহালম বলেন, ‘আদালতের কাছ থেকে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।’
গত ২৯ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত জাহালমকে সাত দিনের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা দিতে ব্র্যাক ব্যাংককে নির্দেশ দেন। সেদিন চেম্বার আদালত জাহালমকে সাত দিনের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। আদেশে আদালত বলেছিলেন, এই সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করা হলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ব্র্যাক ব্যাংকের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এই আদেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের আবেদনটি আগামী ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি।
জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের ৮৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়।
‘৩৩ মামলায় “ভুল” আসামি জেলে: “স্যার, আমি জাহালম, সালেক না…”’শিরোনামে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনটি নজরে আনা হলে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন।
আদালতের নির্দেশে ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম। তারপর রুলের ওপর শুনানি হয়।