এ কেমন বর্বরতা, এর শেষ কোথায়

মব-সহিংসতাসহ বর্বরতার শিকার ব্যক্তিরাকোলাজ

অস্ত্রোপচারে রুমা বেগমের ছেলের জন্ম হয়েছিল। নতুন অতিথির আগমনে পরিবারটি আনন্দে ভাসে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আনন্দ ছাপিয়ে আসে শোক।

গত ১৪ আগস্ট শরীয়তপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্মের পরই নবজাতকটির শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। চিকিৎসক নবজাতককে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

মোশারফ মিয়া নামের একজন অ্যাম্বুলেন্সচালক ঢাকা থেকে রোগী নিয়ে শরীয়তপুরে গিয়েছিলেন। নবজাতকের বাবা নূর হোসেন অল্প খরচে অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়া করেছিলেন।

কিন্তু স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সচালকদের দাবি ছিল, বেশি ভাড়া দিয়ে তাঁদের অ্যাম্বুলেন্সে যেতে হবে। এ কারণে স্থানীয় চালক সবুজ দেওয়ান অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে চাবি নিয়ে চালককে মারধর করেন। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সেই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় নবজাতকটির।

গত ২২ আগস্ট ভোরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ‘চোর’ সন্দেহে পেটাতে পেটাতে হত্যা করা হয় ১৫ বছর বয়সী কিশোর মো. রিহান মহিনকে। রিহান বন্ধুদের নিয়ে চট্টগ্রাম নগরে বেড়াতে গিয়েছিল। ফেরার দিন দিবাগত রাত তিনটার দিকে বাড়ির কাছে এলে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা সাত থেকে আটজন যুবক তাদের ‘চোর’ বলে ধাওয়া দেন। পরে তাদের ধরে সেতুর ওপর বেঁধে ‘মব’ করে মারধর করেন। পুলিশের ধারণা, পূর্ববিরোধ থেকে ‘চোর’ সন্দেহের নাটক সাজিয়ে তাদের পেটানো হয়।

প্রথম আলোর অনলাইনে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে একজন পাঠক মন্তব্য করেন, ‘এ কোন দেশ? এ কেমন দেশ? এ কেমন বর্বরতা? এর শেষ কোথায়? দেশের প্রশাসন কোথায়? আমাদের প্রতিবাদের ভাষা বাক্‌রুদ্ধ!’

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চোর সন্দেহ তিন কিশোরকে রশি দিয়ে বেঁধে পেটানো হয়
ছবি: স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত
আরও পড়ুন

‘আমার পোলারে খুন করার অধিকার দিসে কেডা’

গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরের অশোকতলা বিসিক শিল্পনগরী এলাকার একটি কারখানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মো. সায়েমকে (২৪) হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে ছেলের লাশের অপেক্ষায় থাকা সায়েমের বাবা রিকশাচালক আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমার পোলায় যদি অন্যায় করে, তারে জেলে দিত। ...কিন্তু আমার পোলারে খুন করার অধিকার তারারে দিসে কেডা?’

২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, গণপিটুনির নামে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় মানুষ হত্যার লাইসেন্স দেওয়া হবে সমাজের যেকোনো মানুষের জন্য আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার কারণ। প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব নয়।
নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম আলোর কাছে একই প্রশ্ন করেছেন গাজীপুরের স্থানীয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের বাবা হাসান জামাল। গত ৭ আগস্ট আসাদুজ্জামান তুহিনকে (৩৮) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এক ব্যক্তিকে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে খুন হন তিনি।

এসব ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কোনো কোনো ঘটনায় সরকার বিবৃতি দিয়েছে। কোনো কোনো পরিবারকে পুলিশি পাহারা দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু তারপরও দেশে একের পর এক অমানবিক ঘটনা ঘটে চলছে।

বর্বরতার সাক্ষী সমাজ

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) সামনে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় ভাঙারি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯)।

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী, নিহত ব্যক্তির স্বজন, মামলার এজাহার ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবরণে জানা যায়, গত ৯ জুলাই লাল চাঁদকে রড, ভারী লাঠি ও সিমেন্টের ব্লক-ইট দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। হামলাকারীরা লাল চাঁদকে মারধর করে বিবস্ত্র করেন। তাঁর শরীরের ওপর উঠে লাফান কেউ কেউ। পরে লাল চাঁদের মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা উল্লাস করেন।

আরও পড়ুন

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য-বিবৃতি দেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত পৈশাচিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনাটির দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজকে আরও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে।’

এ ঘটনা আইয়ামে জাহেলিয়াতের নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

বাঁচার আকুতি কেউ শোনেনি

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুরে চোর সন্দেহে বেঁধে পেটানো হয় জুতা সেলাই করা রূপলাল দাস ও ভ্যানচালক প্রদীপ লালকে। কয়েক শ মানুষের ভিড়ে তাঁদের বাঁচার আকুতি কেউ শোনেনি। পুলিশ থাকলেও শেষ পর্যন্ত পিছু হটে যায়।

সমাজ শেখাচ্ছে বৈষয়িকতা, বিত্ত, সম্পদ ও ক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা। সবাই মিলে এ অসহিষ্ণু ও হৃদয়হীন সমাজ আমরা নির্মাণ করছি। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম—কেউ এ দায় এড়াতে পারে না।
খান মো. রবিউল আলম, যোগাযোগবিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক

গত ৯ আগস্ট রাতে ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫ মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বাঁচার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন রূপলাল ও প্রদীপ। স্থানীয় বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ভ্যানের ওপর যখন তাঁদের রাখা হয়, তখনো তাঁরা জীবিত। চারপাশে কয়েক শ মানুষ। পুলিশের চার সদস্য ভ্যানটি ঘিরে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে জনতাকে থামানোর চেষ্টা করছেন। শোরগোল শুরু হলে পিটুনিতে অর্ধমৃত এই দুজনকে রেখে সরে যায় পুলিশ। আশপাশের কেউ কেউ তখন বলছিলেন, ‘পুলিশ পালাইছে।’

গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম
ছবি: সংগৃহীত

২০১৯ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছিলেন তাসলিমা বেগম। তিনি মেয়েকে ভর্তি করানোর তথ্য জানতে একটি স্কুলে গিয়েছিলেন।

২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন, গণপিটুনির নামে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় মানুষ হত্যার লাইসেন্স দেওয়া হবে সমাজের যেকোনো মানুষের জন্য আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার কারণ। প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব নয়।

রংপুরের তারাগঞ্জে গণপিটুনির আগে হাত জোড় করে এভাবে বাঁচার আকুতি জানান প্রদীপ লাল (বাঁয়ে)। নিজের পরিচয় বলছিলেন রূপলাল (ডানে)।
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
আরও পড়ুন

ভয়াবহতার পরিসংখ্যান

বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, মব–সন্ত্রাস ও গণপিটুনির শিকার হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ১১১ জন নিহত হয়েছেন।

গত ৪ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মবের প্রতিটি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

গত ১১ আগস্ট প্রকাশিত ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) ‘পালস সার্ভে ৩’-এর ফলাফল বলছে, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ ‘মব’ (দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা) সহিংসতা নিয়ে উৎকণ্ঠিত।

লাল চাঁদ হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য-বিবৃতি দেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত পৈশাচিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনাটির দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজকে আরও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে।’

যোগাযোগবিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক খান মো. রবিউল আলম বলছেন, ‘ব্যক্তিস্বার্থ ও লাভক্ষতির হিসাব অনেক বেড়েছে। পরার্থবোধ কমে আসছে। যুক্তিশীল আচরণের পরিধি সংকুচিত। সবাই জিততে চায়। সমাজ শেখাচ্ছে বৈষয়িকতা, বিত্ত, সম্পদ ও ক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা। সবাই মিলে এ অসহিষ্ণু ও হৃদয়হীন সমাজ আমরা নির্মাণ করছি। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম—কেউ এ দায় এড়াতে পারে না।’

মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে রাস্তায় ব্যবসায়ী লাল চাঁদকে নৃশংসভাবে হত্যার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। ৯ জুলাই ২০২৫ বিকেলে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাগ, ক্ষোভ, হতাশার ‘বহিঃপ্রকাশ’

গত ১৯ আগস্ট প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, রাজশাহীতে দশম শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রী শিক্ষক মারুফ কারখীকে (৩৪) ছুরিকাঘাত করে। ‘উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে’ ২০২৩ সালে এই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে স্কুলের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর তার ক্ষোভ ছিল। ক্ষোভ থেকে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

গত ২ এপ্রিল রাজধানীর উত্তরায় দুই সন্তানের মা বিউটি গোস্বামী (৩৮) খুন হন। মানিকগঞ্জের একটি বাঁশঝাড় থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হন তাঁর স্বামী অলোক রঞ্জন গোস্বামী। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, বিউটি অধিকাংশ সময় ফেসবুক, অনলাইন ব্যবসা ও লাইভ ভিডিও করে সময় কাটাতেন। ঘটনার দিন রাগে তিনি বিউটির মুখ ও গলা চেপে ধরেন। কিছুক্ষণ মেঝেতে পড়ে বিউটির মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে কার্টনে লাশটি ভরে মানিকগঞ্জের বাঁশঝাড়ে ফেলে আসেন।

গত ১৭ মার্চ কুমিল্লার চান্দিনায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) দুজন কর্মীর কাছ থেকে ঋণের কিস্তি আদায়ের টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পুরুষ কর্মীকে গাছে বেঁধে বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়। আর নারী কর্মীকে নগ্ন করার পর ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। তাঁর বোনের কাছ থেকে বিকাশে টাকা আদায় করা হয়।

গভীর দাগ কাটে মনে

গত বছরের সেপ্টেম্বরে তোফাজ্জল হোসেন নামের এক যুবক রাত আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের ফটক দিয়ে মাঠের ভেতরে যান। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী চোর সন্দেহে তাঁকে আটক করে হলের অতিথিকক্ষে নিয়ে মারধর করেন। পরে তাঁকে হলের ক্যানটিনে রাতের খাবার খাইয়ে আবার হলের অতিথিকক্ষে এনে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা এই যুবককে মৃত ঘোষণা করেন। নির্মম এ ঘটনা সারা দেশের মানুষের মনে গভীর দাগ কাটে।

তোফাজ্জল হোসেন
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

মাগুরায় বড় বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছর বয়সী এক শিশু। গত ৬ মার্চ তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনা সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ-প্রতিবাদের জন্ম দেয়। চলতি বছরের ১৭ মে এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

বরগুনা সদরের বাড়ি থেকে গত ৪ মার্চ বিকেলে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল সপ্তম শ্রেণির এক কিশোরী। বাড়ি ফেরার পথে এক বখাটের নেতৃত্বে কয়েকজন কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ করে। পরদিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পার্কে তাকে ফেলে রেখে যায় তারা। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বরগুনা সদর থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। গত ১১ মার্চ কর্মস্থলে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরে বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

সহযাত্রীর মারধরে মৃত্যু

ট্রেনের জানালার পাশে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে সহযাত্রীর মারধরে ঝুমুর কান্তি বাউলের (৪৮) মৃত্যু হয় গত বছরের ৬ জুন। ঝুমুর নরসিংদী থেকে ঢাকায় ট্রেনে যাতায়াত করতেন। ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছানোর পর হামলাকারী মঞ্জুর কাদেরকে ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন যাত্রীরা। পরে তাঁকে ভৈরব রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়। ভৈরব রেলওয়ে থানায় ঝুমুর কান্তি বাউলের ছোট ভাই রুমুর বাউল মামলা করেন। এই মামলায় মঞ্জুর কাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঝুমুর কান্তি বাউল
ছবি: সংগৃহীত

গত বছর গণ-অভ্যুত্থানের সময় (১৯ জুলাই) নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার পর অনেক বন্দীর সঙ্গে আসামি মঞ্জুরও পালিয়ে যান। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।

ঝুমুর কান্তি বাউলের এক মেয়ে পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে। আরেক মেয়ের বয়স আড়াই বছর। ঝুমুরের ছোট বোন সরকারি চাকরীজীবী স্নিগ্ধা বাউল প্রথম আলোকে বলেন, গত এক বছরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাননি। তাঁর ভাইয়ের (ঝুমুর) বড় মেয়ে রাতে ঘুমের মধ্যে কাঁদে। ছোট মেয়েটা তো বাবা না থাকার বিষয়টি বোঝেই না। সংসার চালানোর জন্য তিনি তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীকে একটি সেলাই মেশিন কিনে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন