আবুল কালাম আযাদের আপিলের সুযোগের অংশটি আইনসম্মত হয়নি: চিফ প্রসিকিউটর
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদকে অন্তর্বর্তী সরকার ‘আপিল দায়েরের শর্তে আত্মসমর্পণ করার যে সুযোগ দিয়েছিল’, তা ইললিগ্যাল (বেআইনি বা অবৈধ), আনলফুল (আইনসম্মত নয়) বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আজ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটা লুপহোল (ফাঁক বা ত্রুটি) রেখে গেছে, যা আবুল কালাম আযাদকে আপিল করার সুযোগ দিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি প্রয়োগ করার সুযোগ দিয়েছে। আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিত আছে। একই সুযোগ যদি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি) নেন, তাহলে তাঁকেও এ সুযোগ দিতে সরকার বাধ্য কি না?
জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘না, এখানে সরকারের বাধ্যবাধকতার কোনো ব্যাপার নেই। কোনো নজিরের প্রশ্ন নেই। সরকার যেকোনো সাজা যেকোনো সময় স্থগিত করতে পারে, রিমিট করে দিতে পারে বা একেবারেই বাতিল করে দিতে পারে—সবকিছু করতে পারে। এটা সরকারের একটা ইনহেরেন্ট পাওয়ার। সেটি যে কারও ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে, কারও ক্ষেত্রে না–ও করতে পারে। এটা সরকারের ইচ্ছা।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এখন প্রশ্নটা হচ্ছে, আবুল কালাম আযাদ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তখন আবেদন করেছিলেন। তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আদেশে আপিল দায়েরের শর্তে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিল। সরকারের ওই আদেশ ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কারণ উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইনে বলা আছে, ৩০ দিন পর আর কোনো আপিল করা যাবে না। নির্বাহী আদেশের কোনো এখতিয়ার নেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনকে সুপারসিড (রদ করে বা অতিক্রম করে) করে কোনো আদেশ দেওয়ার। অতএব আবুল কালাম আযাদকে আপিল দায়েরের শর্তে আত্মসমর্পণের যে সুযোগ দিয়েছিল, এ অংশ ইললিগ্যাল, আনলফুল। কিন্তু আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিতের বিষয়ে তাঁদের কোনো দ্বিমত নেই। সেটা সরকারের এখতিয়ার আছে।
একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, আপিল বিভাগে আবুল কালাম আযাদের বিষয়ে আজকে একটা আদেশ হওয়ার কথা ছিল। তিনি ৯ হাজার ৯০০ দিনেরও পর আপিল করেছিলেন। বলা যায় এটার দিকে তাকিয়ে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা। যেহেতু আজকে আদেশটি হয়নি, পরবর্তী প্রক্রিয়াটা কী? তাঁর আপিল আবেদন হবে কি না, নেবে কি না?
জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আবুল কালাম আযাদকে এই ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রথম রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি যেকোনো কারণেই হোক দীর্ঘদিন বাংলাদেশ থেকে অনুপস্থিত ছিলেন অথবা তিনি আপিলটা ফাইল করতে পারেননি বা করেননি। আইনে পরিষ্কার করে বলা আছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। আইনে এটাও বলা আছে, যদি ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা না যায়, তাহলে পরবর্তী সময়ে আর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটা যে কারও আপিলই হোক। সেটা হোক শেখ হাসিনার, সেটা হোক আবুল কালাম আযাদের, অর্থাৎ যেকোনো পলাতক আসামি অথবা যাঁরা জেলে আছেন। তাঁকে অবশ্যই আপিলটা করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। কেউ যদি ৩০ দিনের মধ্যে এসে আপিল না করেন, তাহলে ওই আসামির পক্ষে আর আপিল দায়েরের সুযোগ থাকবে না। সে কারণে গত তারিখে আপিল বিভাগে আবুল কালাম আযাদের মামলার শুনানিতে তিনি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আবেদনে আইনগুলো দেখিয়েছেন।