সেখানে রংতুলি হাতে আঁকতে দেখা যায় ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরোজকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছবি আঁকার মাধ্যমে যে সুন্দরভাবে প্রতিবাদের বিষয় ফুটিয়ে তোলা যায়, এটিই তাঁরা দেখাচ্ছেন। শিল্পে-গানে তাঁদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।  

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শহীদ ও তৃতীয় বর্ষের মেহেদী আলমের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, কর্তৃপক্ষ থেকে আশ্বাস নয়, সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন চান। এর আগেও অনেকবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি। যত দিন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা না হবে, তত দিন তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আনতে হলে বিভিন্ন পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য কিছু জটিলতা আছে। চারুকলার এ সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে একটি কমিটি হয়েছে। কমিটির সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে এ সমস্যা সমাধান করবেন।  

শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ার পর ১১ দাবিতে গত ২ নভেম্বর ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। এর পর থেকেই তাঁরা ক্লাস বর্জন অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ৫ নভেম্বর উপাচার্য শিরীণ আখতার বরাবর চারুকলা ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চিঠি দেন। গত বুধবার ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন৷ কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের বাদশা মিয়া সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

চবিতে চারুকলা বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭০ সালে। ২০১০ সালে নগরের সরকারি চারুকলা কলেজের সঙ্গে এক হয়ে গঠিত হয় চারুকলা ইনস্টিটিউট। ইনস্টিটিউটের অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে নগরের মেহেদীবাগের বাদশা মিয়া সড়কে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫৩। তাঁদের মধ্যে ছাত্রী ১৭৯ জন, ছাত্র ১৭৪ জন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, চারুকলা ইনস্টিটিউটের শ্রেণিকক্ষগুলোর অবস্থা জীর্ণশীর্ণ। ছাত্রীদের জন্য মাত্র একটি শৌচাগার। আবাসনসুবিধা পান মাত্র ১৩ শিক্ষার্থী। গ্রন্থাগারে বই নেই। ডাইনিংয়ে নেই খাবারের ব্যবস্থা। উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় তাঁরা ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চান।