গবেষণা কী বলছে

২৭টি দেশের ২৫ হাজার ৮৪৮ মানুষের ওপর এই গবেষণা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ মদ্যপায়ী, ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ আগে মদ্যপান করতেন এবং ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ কখনো মদ্যপান করেননি। এর মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষ।

গবেষণায় মদ্যপায়ীদের বিষয়ে বলা হয়, তাঁদের সব ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বেড়ে যায়। মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে রক্ত ভেতর জমলে যে স্ট্রোক হয় তথা হেমোরেজিক স্ট্রোকের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। অবশ্য মস্তিষ্কের রক্তনালিতে জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে যে স্ট্রোক হয় তথা ইসকেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে না।

যেভাবে গবেষণা

বিভিন্ন ধরনের মদ বা অ্যালকোহল (বিয়ার, ওয়াইন, হুইস্কি ইত্যাদি) দিনে বা সপ্তাহে খাওয়ার পরিমাণের সঙ্গে ঝুঁকির পরিমাণ ও মাত্রা দেখার চেষ্টা করেছেন গবেষকেরা। একই সঙ্গে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের রোগ নির্ণয় প্রতিবেদনও তারা পর্যালোচনা করেছেন।

বেশি মাত্রায় মদ্যপান সব ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৯ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বেশি মাত্রায় মদ্যপান করলে ইসকেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে ২৯ শতাংশ আর হেমোরেজিক স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে ৭৬ শতাংশ। উচ্চমাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণ স্ট্রোকের ঝুঁকি ৫৭ শতাংশ বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

কোন ক্ষেত্রে কেমন ঝুঁকি

গবেষকেরা বলছেন, ওয়াইনের চেয়ে বিয়ারে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। সাধারণভাবে মদ্যপানের তুলনায় এক সঙ্গে প্রচুর মদ্যপান করে আনন্দে মেতে ওঠায় স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং যাঁরা ধূমপায়ী, মদ্যপানে তাঁদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি।

মদ্যপান নিয়ে বৈশ্বিক গবেষণা করা একটি জটিল কাজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের মদ আছে। মানের ক্ষেত্রেও রয়েছে পার্থক্য। অনেক দেশে মদ্যপান সংস্কৃতির অংশ। আবার অনেক দেশে মদ্যপান ধর্মীয়ভাবে নিষেধ। গবেষকেরা বলছেন, একটি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও অ্যালকোহলের ধরনের সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকির সম্পর্ক আছে।

অন্যদিকে এটাও স্বীকৃত যে, মদ্যপান অনেক রোগের কারণ। প্রচুর মধ্যপানের কারণে বা মদ্যপানে মেতে ওঠার কারণে বহু মানুষ শারীরিকভাবে আহত হয়, হৃদ্‌রোগ ও স্নায়ুতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়। বেশ কিছু ক্যানসারের কারণও মদ্যপান। বিশ্বব্যাপী অকাল মৃত্যুর একটি বড় কারণ এটি।

বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ স্ট্রোক। স্ট্রোক থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষদের একটি বড় অংশ প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার কম হতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে নিম্ন ও নিম্নমধ্য আয়ের দেশে এর প্রকোপ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর কথা বিশ্বব্যাপী আলোচনা চলছে।

স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ, হাত বা পা বিশেষ করে শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়ে। কথা বলায় জড়তা দেখা দেয় বা আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যের কথা বুঝতে পারেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির এক চোখে, কখনো বা দুই চোখে দেখার সমস্যা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁটতে সমস্যা হয়, অনেক ক্ষেত্রে হাঁটার সময় ভারসাম্য থাকে না। স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা হয়। এগুলোই স্ট্রোকের লক্ষণ।