সড়কে দুর্ঘটনা কমানোর জন্য আসলে আমাদের পরিবহন খাতটাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। পরিবহন খাতের রোগটা টেকনিক্যাল (কারিগরি) নয়, এটা রাজনৈতিক। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এর সমাধান করতে হবে। সড়ক নিরাপদ করতে যেসব সুপারিশ দেখি বা আইনও তৈরি হয়েছে, এই সুপারিশ বা আইন যদি প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন করতে হয়, সে ক্ষেত্রে আসলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা লাগবে। এই রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি আছে। রাজনৈতিক সরকার আসার পরও আমরা দেখি যে পরিবহন খাত যাঁরা পরিচালনা করেন, যাঁরা নেতা আছেন, তাঁদের কাছে সরকার অসহায় বা দুর্বল। ফলে জনগণের অর্থে আইন বা সুপারিশ তৈরি হলেও সেগুলো আলোর মুখ কখনো দেখে না।
আমাদের রাস্তাঘাট ঠিক নেই। যানবাহন ঠিক নেই। চালক ঠিক নেই। চালকের মালিক ঠিক নেই। এমনকি যারা নিয়ন্ত্রককারী সংস্থা, তারাও ঠিক নেই। সে জায়গায় সরকারও অসহায়–দুর্বল হয়ে আছে। দেশের পুরো পরিবহন খাত বিশৃঙ্খল হয়ে গেছে। এখানে শত শত ঝুঁকি যুক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় যে দুর্ঘটনাগুলো হচ্ছে, আমি মনে করি এটা স্বাভাবিক।
মৃত্যুর মিছিল আমরা সড়কে দেখছি, রেলে দেখছি, নৌপথেও দেখছি, অর্থাৎ পুরো পরিবহন খাতে শত শত ঝুঁকি। এ অবস্থায় হতাহতের সংখ্যা কমবে না।
সরকারকে আমি বলব, করণীয় নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু করতে পারলাম না। কেন পারলাম না। বর্তমান সরকারের উচিত সেই জায়গাটাকে মূল্যায়ন করা। যাঁদের ওপর দায়িত্ব ছিল, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
৫৪ বছরে যত ধরনের জঞ্জাল পরিবহন খাতে জমা হয়েছে, এটা রাতারাতি দূর হবে না, এটা সত্য। কিন্তু শুরু করতে হবে। শুরু করতে হলে সরকারের শতভাগ রাজনৈতিক সদিচ্ছা লাগবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এটা হবে না। বর্তমানে রাজনৈতিক সরকার আছে। পরিবহন খাতের নেতারা রাজনৈতিক সরকারের দলেরই। অতএব সরকার যদি চায় অবশ্যই পরিবর্তন করা সম্ভব।
সরকারকে মনে রাখতে হবে, তারা নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দেয় জনগণের কাছে। কোনো নেতা বা কোনো একটা গোষ্ঠীর কাছে নয়। অতীতে দেখা গেছে, প্রতিশ্রুতি বা ম্যান্ডেটটা পরে হয়ে যায় নেতা–শ্রমিকদের প্রতি। বর্তমান সরকার এই সংস্কৃতি ভাঙতে পারলে দেখা যাবে দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়েছে।
মো. হাদিউজ্জামান, সাবেক পরিচালক, অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বুয়েট