ওই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমের খবর নজরে এলে আজ বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির খায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে এ বিষয়ে জানতে চান। একই সঙ্গে দুদক বিষয়টি জানে কি না, জানলে কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন ও দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানিতে ছিলেন।

পরে এ কে এম আমিন উদ্দিন জানান, রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকা বিশ্নবিদ্যালয়ের ছাত্র মহিউদ্দিন রনির ১৩ দিন একক আন্দোলনের বিষয়ে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন। আজ ডেইলি স্টারে ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, রেলওয়ের দুর্নীতির সিন্ডিকেট। এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, দুর্নীতি ও রনির ছয় দফার বিষয় কী, তা-ও হাইকোর্ট মৌখিকভাবে জানতে চেয়েছেন। রাষ্ট্র ও দুদকের কাছে এসব জানতে চেয়েছেন।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোর্ট আমাকে বলেছেন, আপনি কি ডেইলি স্টার পড়েছেন? পেজ থ্রি দেখেছেন? আমি বলেছি, দেখেছি। আদালত বললেন, তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় দুর্নীতির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে, এটা দুদক জানে কি না? জানলে কোনো ব্যবস্থা আছে কি না, এটি জানান।’

বিষয়টি অফিসকে (দুদক) অবহিত করেছেন জানিয়ে দুদকের এই আইনজীবী বলেন, অফিস তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তাঁকে জানালে তিনি তা আদালতকে জানাবেন।

মহিউদ্দিন রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে গত এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের আধুনিকায়নের দাবিতে অনশন করেন তিনি। গত মাসে রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার পর পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অনশন শুরু করেন মহিউদ্দিন। ১০ জুলাই ঈদের দিনেও তিনি অবস্থানে ছিলেন। শুরুতে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি করলেও পরে পুলিশের এক সদস্যের বাধার মুখে তিনি গণস্বাক্ষর বন্ধ রেখেছেন। এর মধ্যে মহিউদ্দিনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আরও কয়েকজন অবস্থান কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন