নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আইনগত বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। আজ সোমবার মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা লক্ষ করছি, সাম্প্রতিক কালে নারীর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ, নারীর অধিকারকে খর্ব করে—এমন ধরনের প্রচারণা চলছে। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের এই রায়কে কেন্দ্র করে নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে—এমন কোনো ধরনের অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগেরও জেন্ডার সংবেদনশীল ভূমিকার প্রত্যাশা করছে।’
মহিলা পরিষদ নারীর মর্যাদা, নারীর সম্মান নিশ্চিতের বিষয়টির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে বিবৃতিতে সংস্থাটি নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আইনগত বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়।
নারী শ্রমিক অধিকারের পরিপন্থী
জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সাহিদা পারভীন শিখা ও সাধারণ সম্পাদক সুমনা সরকার পৃথক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘হাইকোর্ট সাম্প্রতিক রায়ে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬৯–এর বহুবিবাহ–সংক্রান্ত ধারা বহাল রেখেছে। এই রায় নারীর সম–অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং পিতৃতান্ত্রিক বৈষম্যকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল। এতে শ্রমজীবী নারীকে আরও প্রান্তিক করে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।’