র‌্যাবের তথ্য বলছে, কামরুল হাসান ২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির অবরোধের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একদল কর্মী বিশ্বজিৎকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় কামরুল হাসানও আসামি ছিলেন।

র‌্যাব-৩–এর অপারেশন ও গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা বীণা রানী দাস প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বিশ্বজিৎকে প্রতিপক্ষ দলের সদস্য ভেবে ধাওয়া করেন। বিশ্বজিৎ আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পালিয়ে ভারতে চলে যান কামরুল। মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার দুই মাস পর দেশে ফিরে আসেন।

কামরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০১১ সালে কামরুল সহপাঠীকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছেলেসন্তান আছে। ২০১৩ সালের শেষ দিকে দেশে ফিরে ধানমন্ডি এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।

প্রথমে ছদ্মনামে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন। একপর্যায়ে কামরুলের সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের মূল হোতা খোকন ও সোহেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। ২০১৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তাঁরা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করেন।

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় কামরুলের বিরুদ্ধে তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ওই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশ্বজিৎ হত্যার এক বছর পর ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত মামলার রায় দেন। এতে ৮ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। এতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং অপর দুজনকে খালাস দিয়ে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে আপিল করে দুই আসামি খালাস পান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন