বরিশালে আইনজীবী সমিতির সভাপতি–সম্পাদকসহ ৯ আইনজীবীর প্রতি আদালত অবমাননার রুল

হাইকোর্ট ভবনছবি: প্রথম আলো

বরিশালে আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন, সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলামসহ সমিতির ৯ আইনজীবীর প্রতি আদালত অবমাননার রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার স্বতঃপ্রণোদিত আদালত অবমাননার এ রুল দেন।

অপর সাতজন হলেন আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ (জেলা পিপি), নাজিম উদ্দিন পান্না (মহানগর পিপি), আইনজীবী মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, সাঈদ ও হাফিজ খান বাবু। রুলে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না এবং আদালত অবমাননার জন্য কেন শাস্তি দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী আদেশের জন্য ১১ মার্চ তারিখ রেখেছেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। পরে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভাঙচুর বিষয়ে অবহিত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বরিশাল মহানগর দায়রা জজের মাধ্যমে ২৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদন দেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। এই আবেদন ও এ–সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। শুনানি নিয়ে আদালত ৯ জনের প্রতি স্বতঃপ্রণোদিত আদালত অবমাননার রুল দেন।

সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান

আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে এজলাস চলাকালে গতকাল (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনার সৃষ্টি হয়। একদল আইনজীবী আদালত কক্ষে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল আচরণে লিপ্ত হন এবং দায়িত্বরত বিচারকের প্রতি অসদাচারণ করেন।

বরিশালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে হট্টগোল হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে
ছবি : সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও থেকে নেওয়া

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার ফুটেজে দেখা যায়, আদালতের ভেতরে বেঞ্চ ও অন্যান্য আসবাব ভাঙচুর করা হয় এবং বিচারকের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়। উদ্ভূত প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস মুলতবি করে খাস কামরায় চলে যান। ফলে আদালতের স্বাভাবিক বিচারকার্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিচারকের অপসারণের দাবিতে আদালতের অভ্যন্তরে ও বাইরে বিক্ষোভ করেন।

উল্লেখিত ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টিগোচর হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আজ বুধবার আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন। অন্যদিকে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বেঞ্চ সহকারী এজাহারকারী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন এবং দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় মামলা করেছেন। তা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন