বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নিম্নমান সহকারী পদে মাকসুদুল সালেহীন আর অফিস পিয়ন পদে রাকিব ফরাজী ও সোহেল খান আবেদন করেন।

এসব পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এই ৩ জনের কাছ থেকে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিক চন্দ্র দাশের বিরুদ্ধে। প্রার্থী সোহেল খানের সঙ্গে মানিক চন্দ্র দাশের ২৯ মিনিটের একটি ফোনালাপ প্রথম আলোর কাছে রয়েছে। ফোনালাপে মানিক চন্দ্র দাশের সঙ্গে তিন প্রার্থীর টাকা লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

টাকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মাকসুদুল সালেহীন, রাকিব ফরাজী ও সোহেল খান প্রথম আলোকে বলেন, মাকসুদুল সালেহীন মানিক চন্দ্র দাশের স্ত্রী নিপার গৃহশিক্ষক ছিলেন। সেই সূত্রে তাঁদের পরিচয়। মানিক চন্দ্র দাশ এ তিনজনকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেককে ছয় লাখ টাকা করে দিতে বলেন। এ জন্য তিনি অগ্রিম টাকাও চান।

তিন ভুক্তভোগী বলেন, যদি চাকরি দিতে না পারেন, তাহলে অগ্রিম টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান মানিক চন্দ্র দাশ। এরপর তাঁকে সোহেল খান ৪ লাখ, রাকিব ফরাজী সাড়ে ৩ লাখ আর মাকসুদুল সালেহীন ৬০ হাজার টাকা দেন।

তিন চাকরিপ্রার্থী বলেন, যখন তাঁরা বুঝতে পারেন, চাকরি পাওয়ার নামে প্রতারিত হচ্ছেন, তখন তাঁরা টাকা ফেরত চান। কিন্তু মানিক চন্দ্র দাশ টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

জানতে চাইলে স্ত্রীর সঙ্গে মাকসুদুল সালেহীনের পরিচয় থাকার বিষয়টি মানিক চন্দ্র দাশ স্বীকার করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ব্যক্তিগত কাজে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। চাকরি দেওয়ার কোনো বিষয় ছিল না। তিনি টাকা ফেরত দেবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য শিরীণ আখতার বলেন, ‘আজকের মধ্যেই মানিক চন্দ্র দাশকে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে কাঁরা আছেন, তা এখনই বলা যাবে না।’
শিরীণ আখতার আরও বলেন, নিয়োগ–বাণিজ্যের সত্যতা পেলে পাঁচ দিনের মধ্যে মানিক চন্দ্র দাশকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে।

চবিতে নিয়োগ–বাণিজ্য নিয়ে ফোনালাপ ফাঁস এবারই প্রথম নয়। ছয় মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক লেনদেন নিয়ে পাঁচটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছিল। এসব ফোনালাপ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিরীণ আখতারের ব্যক্তিগত সহকারী খালেদ মিছবাহুল, কর্মচারী আহমদ হোসেন ও দুই নিয়োগপ্রার্থীর।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন