ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ায় নির্বাচনী ঐক্যে আসন বাড়ানোর চেষ্টা এনসিপির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ঐক্য থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেরিয়ে যাওয়ায় ভোটে ‘বড় প্রভাব’ পড়বে না বলে মনে করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে ইসলামী আন্দোলন চলে যাওয়ায় ঐক্যে এনসিপির আসন বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে দলটি। সে জন্য চেষ্টাও শুরু করেছে তারা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩ আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১০ দল। পরে গতকাল শুক্রবার বিকেলে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন জানায়, তারা এককভাবে নির্বাচন করবে। এর মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থীদের ভোট ‘এক বাক্সে’ আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর জিগাতলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিক্রিয়া জানান দলের মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের জন্য ঐক্যে এখনো আলোচনার দরজা খোলা আছে। তাঁরা আশা করছেন, ইসলামী আন্দোলন ঐক্যে ফিরবে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এনসিপি সমঝোতায় ৩০টি আসনে ছাড় পেয়েছে। কিন্তু শুরু থেকেই জামায়াতের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০টি আসন চাইছিল দলটি। সেই লক্ষ্যে ৪৭টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০টির মতো আসন ফাঁকা রাখার কথা ছিল। এখন যেহেতু তারা বেরিয়ে যাচ্ছে, ফলে এনসিপির আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে দলটি। এনসিপির আশা, তাদের আরও ১০ থেকে ১৫টি আসন বাড়তে পারে।
জানতে চাইলে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে তারা যদি ঐক্যে না থাকে, সেটাতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। তারা বেরিয়ে যাওয়ার পর এখন ঐক্যে এনসিপির কিছু আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই আলোকে আলোচনাও চলমান।’