জামায়াতের জোটে যাচ্ছে না ইসলামী আন্দোলন, ২৬৮ আসনে থাকছে প্রার্থী

নির্বাচনী আসন সমঝোতার বিষয়ে অবস্থান জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনেছবি: প্রথম আলো

নানা নাটকীয়তার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি জানিয়েছে, তারা এককভাবেই নির্বাচন করছে। তাদের হাতপাখার প্রার্থী থাকবে ২৬৮টি আসনে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলে আসন সমঝোতা নিয়ে গত কয়েক দিনের টানাপোড়েনের পর আজ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলীয় অবস্থান জানান ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো এক হয়ে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন এবং গণভোট আলাদা দিনে করার দাবিতে একজোট হয়ে যুগপৎ আন্দোলনে নেমেছিল। এরপর তারা একজোট হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেয়।

আরও পড়ুন

কিন্তু আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের টানাপোড়েন দেখা যায়। জামায়াত ৪০টি আসন ছাড় দিতে চাইলেও ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসন দাবি করে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে দর–কষাকষির পর গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলনকে না পেয়ে জামায়াতসহ ১০টি দলের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেন।

সেখানে ৪৭ আসন ফাঁকা রেখে ইসলামী আন্দোলনকে জোট বা নির্বাচনী এই মোর্চায় রাখার আশা রেখে বক্তব্য দিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার পরদিনই সংবাদ সম্মেলন করে আলাদাভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিল ইসলামী আন্দোলন।

সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ২৭০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। দুটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা কাজ করছেন। একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।

আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে টানাপোড়েনের খবরের কারণে ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ছিল বেশ কৌতূহল
ছবি: ইসলামী আন্দোলনের ফেসবুক পেজ

তাহলে ৩০০ আসনের বাকি ৩২টি আসনে ইসলামী আন্দোলন কাকে সমর্থন দেবে, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাদের নীতি-আদর্শের সঙ্গে মিল রয়েছে, এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য ইসলামপন্থী শক্তির সামনে একটা বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে যাতে ইনসাফ কায়েম ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায় সে লক্ষ্যে দলের আমির আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ ঘোষণা করেছিলেন।

এটা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল উল্লেখ করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, অনেকে ইসলামী আন্দোলনের আমিরের ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক পর্যায়ে এসে কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ‘ওয়ান বক্স পলিসি’কে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ জন্য ইসলামী আন্দোলন ব্যথিত, মর্মাহত।

আরও পড়ুন

গাজী আতাউর বলেন, ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে ইসলামপন্থী শক্তি একত্র করার জন্য যে চেষ্টা করেছিল ইসলামী আন্দোলন, শেষ পর্যায়ে এসে সে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নীতি, আদর্শ, ইনসাফের প্রশ্নে তাদের দল বৈরিতার শিকার হয়েছে।

গাজী আতাউর বলেন, ‘সে জন্য আমরা আজ আপনাদের সামনে ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছি যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র সাবমিট করেছে, এর মধ্যে আপিলে ২ জন বাতিল হয়েছে, বাকি ২৬৮ জন সংসদ সদস্যপ্রার্থী এখনো পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন। আমরা তাঁদেরকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। তাঁরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।’

কেন ইসলামী আন্দোলন ১১ দলের আসন সমঝোতা থেকে সরে গেল, সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর শক্তি–সামর্থ্য বেশি থাকলে নৈতিক ও আদর্শিকভাবে ইসলামী আন্দোলনও কারও চেয়ে দুর্বল নয়। জামায়াতের আমির ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন। জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকের পর একজন খ্রিষ্টান নারী স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁরা আশ্বস্ত হয়েছেন, জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করবে না। বিষয়টি জানার পর ইসলামী আন্দোলন বুঝতে পেরেছে, যে লক্ষ্য নিয়ে তাদের দল এগিয়ে যাচ্ছে, সে লক্ষ্য অর্জিত হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, আহমদ আবদুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, প্রচার ও দাওয়া সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম (মারুফ), সহপ্রচার সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ প্রমুখ।